ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এদিনই
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আগামী ১২ মার্চ অথবা তার দু-এক দিন আগে বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, নবনির্বাচিত সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন থেকেই শুরু হবে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক সংসদীয় কার্যক্রম।
প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অধিবেশনের শুরুতেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—নির্বাচন করা হবে। সংসদ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে এ দুটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সদ্য বিদায়ী সময়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে ও ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হতে পারে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন ডাকেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন বসানোর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে চূড়ান্ত নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বিরোধী দলের অবস্থান
এবারের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতা এবং নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্বে থাকবেন।
কার্যকর সংসদের প্রত্যাশা
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় কার্যক্রমের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার চায় প্রথম দিন থেকেই সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় উপস্থিতিতে এবারের সংসদীয় বিতর্ক ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নতুন গতি পেতে পারে।











