শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চগড়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ডাকা কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ, আহত ২০

প্রবাহ বাংলা ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৭ এম
পঞ্চগড়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ডাকা কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ, আহত ২০

পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে হত্যার বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীরা ঢাকা–তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছিলেন। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের ফলে যানজট সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শেষ করে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে কর্মসূচি শেষের পরপরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

আন্দোলনের নেতারা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেছি। এরপর আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”

এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পঞ্চগড় আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আকবর আলী বলেন, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।

অন্যদিকে, সেনাক্যাম্প কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ বলেন, “ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে সেনাবাহিনীও একমত। তবে আন্দোলনের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি লাঠিচার্জ হয়ে থাকে, সে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।”

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বাংলাদেশী ইমামের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ এম
বাংলাদেশী ইমামের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

কোরিয়ার আনসান মসজিদের নিয়মতান্ত্রিক বাংলাদেশী ইমাম ও খতীব মুফতী ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার ((২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মুফতী ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কোরিয়ান তরুণী কিম চিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আজ কিছুক্ষণ আগে (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার) আনসান মসজিদে এক কোরিয়ান তরুণী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে মসজিদে ঘুরতে এসেছিলেন। খুব সংক্ষেপে আল্লাহ তাআলা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের মৌলিক পরিচয় তার কাছে উপস্থাপন করলাম।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কোরিয়ান তরুণী কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, কোরিয়ান এই তরুণ কিছু প্রশ্ন করার পর আমি এসবের জবাব তাকে শোনালাম। জবাব পেয়ে এই তরুণী অনেক খুশি হলেন। আর কোনো বিলম্ব করলেন না। ইসলামের কালেমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন।

তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর তার মুসলিম নাম রাখা হয় আয়েশা। তার কোরিয়ান নাম ছিল কিম চি।

প্রসঙ্গত আয়েশা এখন একজন কাজাখ মুসলিমকে বিয়ে করবেন। তবে বিয়ের জন্যই ইসলাম গ্রহণ করেছেন এমন নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, ইসলাম প্রকৃতিগতভাবেই সরল ও সহজাত ধর্ম। অথচ ভুল ধারণা ও অপপ্রচারের কারণে অনেক অমুসলিম ইসলামকে ভয় পান। সুন্দর আচরণ, আন্তরিকতা ও সহজ ভাষায় ইসলামের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরলে সেই ভয় ও ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, কোরিয়ার মাটিতে ইসলামের দাওয়াহর এমন সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবমুসলিম বোন আয়েশাকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং তাঁর জীবনকে শান্তি ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করুন।

ডেঙ্গুতে ২৫ দিনে ১১৪ মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ এম
ডেঙ্গুতে ২৫ দিনে ১১৪ মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার

গেল পঁচিশ দিনে ১১৪ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার জন মানুষ। এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনেই ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ৯৫৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজার ১০৪ জন। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত দুজনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৮২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৫৩ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের এই ২৫ দিনে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল ৪৩ জনের। এ ছাড়া জুলাই মাসে ৩৬, জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে মে মাসে ১, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

উন্নত জীবনের আশায় মৃত্যুর ঝুঁকি

ভূমধ্যসাগর থেকে আবারও ১৬০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল মিশর

আফছার হোসাইন, মিশর প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৭ এম
ভূমধ্যসাগর থেকে আবারও ১৬০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল মিশর

উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ পৌঁছানোর ভয়ংকর চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হলো। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ রাবারের নৌকায় সাগর পাড়ি দেওয়ার সময় গত এক সপ্তাহে মিশরের বিভিন্ন উপকূল থেকে অন্তত ১৬০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁরা বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন।

​মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ১৬০ বাংলাদেশির মধ্যে মাতরুহ উপকূল থেকে ৪৬ জন, পোর্ট সাইদ থেকে ৫৮ জন এবং দামিয়েত থেকে ৫৬ জন রয়েছেন। এসব অভিযানে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সুদান ও মিশরসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদেরও উদ্ধার করা হয়।

​ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ আর অনিশ্চিত গন্তব্য—সব মিলিয়ে এসব যাত্রা চরম জীবনঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। ভাগ্য বদলের স্বপ্নে ঘর ছাড়লেও বহু মানুষের পথ থেমে যাচ্ছে সমুদ্রের মাঝপথেই।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

​ব্যস্ততা বেড়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস মিশর

এদিকে টানা কয়েক দিনের উদ্ধার অভিযানের পর মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে আইনি ও কনস্যুলার সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

​দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনো বাংলাদেশি উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরপরই প্রথম কাজ হয় তাঁদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এ লক্ষ্যে মিশরের পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন, আদালত ও হাসপাতালের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা।

​উদ্ধারকৃত নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠাতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আটক ও উদ্ধার হওয়ার কারণে দূতাবাসের ওপর কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে সব ঝুঁকি সামলে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কূটনীতিকরা।

​একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধ অভিবাসনের ভয়ংকর রূপ এবং ‘নিরাপদ অভিবাসনে’র গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট করে তুলল।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক