পতাকায় মোড়ানো কফিনে দেশে ফিরলো জুলাই বিপ্লবী ওসমান হাদির মরদেহ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ এবং আধিপত্যবাদবিরোধী প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির লাশ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। তাঁর পতাকায় মোড়ানো কফিনবাহী ফ্লাইট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মরদেহটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই শাহবাগ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছে শহীদকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। পুরো বিমানবন্দর এলাকা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘেরা রয়েছে।
ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারের সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সরকার তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার ব্যবস্থা করে, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও সমকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতেন এবং তার যুক্তিতর্কের ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতো। এছাড়া তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন হাদি। নিজ ফেসবুক পেজে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি সত্ত্বেও ইনসাফের লড়াই থেকে পিছিয়ে যাননি।
ওসমান হাদিকে হত্যার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে। তারা বর্তমানে ভারতে পালিয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে ফয়সলের বাবা-মা, স্ত্রী ও শ্যালকও রয়েছেন।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শেষকৃত্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ যোগ দিতে শুরু করেছেন, যারা তাঁকে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করতে চান।












