বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন

পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতি ‘বর্ণবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ অভিবাসী সংগঠনের প্রধান তিমোতেও

পর্তুগালে ধনী বিদেশি ও আদালতের দ্বারস্থ অভিবাসীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন, অভিযোগ সলিদারিয়েদাদে ইমিগ্রান্তের প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাসেদোর

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ এম
পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতি ‘বর্ণবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ অভিবাসী সংগঠনের প্রধান তিমোতেও

পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতিকে ‘বর্ণবাদী, বিদেশিবিদ্বেষী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ বলে সমালোচনা করেছেন দেশটির অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসী সংগঠন সলিদারিয়েদাদে ইমিগ্রান্তে-এর প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাসেদো। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান অভিবাসনব্যবস্থায় আর্থিকভাবে সচ্ছল বিদেশি নাগরিক এবং নিজেদের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন এমন অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অভিবাসীরা প্রয়োজনীয় সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসা কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ করেন। পর্তুগালের অভিবাসন, সংহতি ও আশ্রয়বিষয়ক সংস্থা আইমা প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্ণ হবে।

ভাষা, ধর্ম ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিমোতেও মাসেদোর অভিযোগ, পর্তুগালের বর্তমান অভিবাসননীতিতে ভাষা, ধর্ম ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর মতে, পর্তুগিজ ভাষাভাষী অভিবাসীদের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পেছনে দেশটির রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে থাকা নব্য ঔপনিবেশিক মানসিকতা কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে। ধর্মীয় পরিচয় ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এগুলো তিমোতেও মাসেদোর বক্তব্য ও মূল্যায়ন সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সরকারের স্বীকৃত অবস্থান বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

আইমা প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

পর্তুগালে অভিবাসন প্রশাসনের কাঠামো পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সাবেক অভিবাসনবিষয়ক উচ্চ কমিশনারের দপ্তর এসিএম এবং বিদেশি ও সীমান্তবিষয়ক পরিষেবা এসইএফ বিলুপ্ত করার পর আইমা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিমোতেও মাসেদোর মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সরাসরি পুলিশি কাঠামোর বাইরে আনার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক ছিল। তিনি ফ্রান্সের মতো অন্যান্য দেশের উদাহরণও উল্লেখ করেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, এর ফলে অভিবাসীদের জন্য আরও মানবিক ও কার্যকর সরকারি নীতি তৈরি হবে।

কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে পিএসডি ও সিডিএস দলের জোট সরকার সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

সাবেক এসইএফের কার্যক্রম নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, লিসবন বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক এলাকায় অভিবাসীদের ওপর হামলা, খাবারের অভাব এবং আটকে রেখে নির্যাতনের মতো ঘটনার বিষয়ে তাঁদের সংগঠন আগেই সতর্ক করেছিল।

ইউক্রেনীয় এক অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় এসইএফের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসনকে ‘ব্যবসায়’ পরিণত করার অভিযোগ

আইমার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিমোতেও মাসেদো বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অভিবাসনসংক্রান্ত পরিষেবার কিছু অংশ বেসরকারি আইনজীবী, আইনগত প্রতিনিধি ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তাঁর অভিযোগ, এর ফলে অভিবাসীদের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান পেতে আদালতের আশ্রয় নিতে হচ্ছে এবং আইনজীবীদের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসী সংগঠনগুলোকেও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, এভাবে নাগরিক সমাজের স্বাধীন ভূমিকা দুর্বল হচ্ছে। অনেক সংগঠন সরকারি প্রকল্পের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

তিমোতেও মাসেদোর ভাষায়, অভিবাসনব্যবস্থা এখন এমন একটি ব্যবসায়িক কাঠামোর দিকে যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান পেতেও অভিবাসীদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ পারিবারিক পুনর্মিলনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট?

পর্তুগালে অভিবাসীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি হলো পারিবারিক পুনর্মিলন বা রিগ্রুপামেন্তো ফামিলিয়ার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।

তিমোতেও মাসেদোর দাবি, প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০টি পারিবারিক পুনর্মিলনসংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট হচ্ছে। তবে তাঁর অভিযোগ, এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদালতের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু অভিবাসীকে আইমার কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা প্রশাসনিক সাড়া পেতে প্রশাসনিক আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এ জন্য তাঁদের আইনজীবী নিয়োগ করতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে আইমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে যাঁদের অর্থ আছে, তাঁরা আইনি পথে এগিয়ে যেতে পারছেন; কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল অভিবাসীদের পক্ষে সেই সুযোগ নেওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, “গরিবদের কোনো অধিকার নেই”এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

এখানে প্রতিদিনের ৩০০ থেকে ৪০০টি অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা এবং আদালতের মাধ্যমে সেগুলো পাওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির নেতার দেওয়া হিসাব ও অভিযোগ; প্রতিবেদনে এর স্বাধীন সরকারি পরিসংখ্যানগত যাচাই দেওয়া হয়নি।

কাজ না পেয়ে পর্তুগাল ছাড়ছেন অভিবাসীরা

তিমোতেও মাসেদোর মতে, অভিবাসীরা পর্তুগালে শুধু বসবাসের সুযোগ বা সরকারি সহায়তা নিতে আসেন না। তাঁরা কাজ করতে, অর্থনীতিতে অবদান রাখতে এবং নিজেদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আসেন।

কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাব, দুর্ব্যবহার এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি অসম্মান তাঁদের দেশটি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর দাবি, আগে নির্ভরশীল অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের প্রায় ৪০ শতাংশ ইতোমধ্যে পর্তুগাল ছেড়ে স্পেনসহ অন্যান্য দেশে চলে গেছেন। তাঁর মতে, এসব দেশে অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী সরকারি নীতি রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে এই ৪০ শতাংশের হিসাবের সময়কাল, মোট জনসংখ্যা কিংবা পরিসংখ্যানের উৎস বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি। তাই সংখ্যাটিকে তাঁর দেওয়া দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, পর্তুগালে অভিবাসীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এমন বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। বরং তাঁর মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশটি কর্মক্ষম অভিবাসীদের হারাচ্ছে।

ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি নিয়েও সমালোচনা

পর্তুগালের পিএসডি ও সিডিএস জোট সরকারের অভিবাসননীতি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিমোতেও মাসেদো।

তাঁর অভিযোগ, পর্তুগাল সরকার ইউরোপের চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থানের প্রতি নতি স্বীকার করছে। তাঁর মতে, এসব নীতির ফলে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি, বহিষ্কার এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসীদের একীভূতকরণের জন্য শুধু নামমাত্র আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে একটি পরিকল্পনার কথা থাকলেও সেটি কবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে তখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন

অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের পর্তুগিজ নাগরিকদের বসবাসের কিছু এলাকার অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিমোতেও মাসেদো।

তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় আবর্জনা, দারিদ্র্য ও অবহেলিত জীবনযাত্রার সমস্যা যথাযথভাবে সমাধান করা হচ্ছে না। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায় এবং দরিদ্র পর্তুগিজ নাগরিকেরা সমাজের মূলধারা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

তিনি মনে করেন, এসব এলাকার উন্নয়ন, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

‘বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে’, আন্দোলন নিয়ে নেহা বোরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১১ পিএম
‘বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে’, আন্দোলন নিয়ে নেহা বোরা

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন মূলত বাংলাদেশ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও সাধারণ সম্মেলন উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তা এ কথা বলেন তিনি।

নেহা বোরা বলেন, ‘ভারতজুড়ে এখন যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা মূলত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে দেখে। আমাদেরকে পথ দেখানোর জন্য ও ভারতের তরুণ সমাজের প্রতি সমর্থন জুগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা ছিল, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বর্তমানে ভারতে যে বিক্ষোভ চলছে, তার উদ্দেশ্যেও এক’।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টার সাথে ভারতের শিক্ষাঙ্গনে চলা উগ্রবাদী প্রভাবের গভীর মিল রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের যৌথভাবে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব করে নেহা আরও বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। আপনাদের কাছ থেকে আমরা অনুপ্রেরণা পেয়েছি ও আপনাদের করা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছি। আশা করি, আপনারা ও আমরা মিলে একটি ভালো দক্ষিণ এশিয়া গড়তে পারবো’।

উল্লেখ্য, ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরা ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং এআইএসএর সর্বভারতীয় সভাপতি। নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ২০১৯-২০২০ সালে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরও বিস্তৃত হয়।

বিহারে গঙ্গা নদীতে নৌকা উল্টে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম
বিহারে গঙ্গা নদীতে নৌকা উল্টে ১৩ শিশুর মৃত্যু

ভারতের বিহারে গঙ্গা নদীতে নৌকা উল্টে ১৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নৌকাটিতে করে শিশুরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি উৎসবে যাচ্ছিল। তবে এতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। পরে নৌকাটি উল্টে গেলে শিশুগুলো প্রাণ হারায়।

নৌকা উল্টে যাওয়ার পর পর সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন স্থানীয়রা। তারা মোবাইলের টর্চের আলো জ্বালিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুদের তোলার চেষ্টা করেন। এরমধ্যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আর মৃত অবস্থায় নদী থেকে পাওয়া যায় ১৩ শিশুর নিথর দেহ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নৌ দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে বিহারের পূর্বাঞ্চলের বৈশালী জেলায় নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে।

রামলক্ষণ নামে এক গ্রামবাসী বলেছেন, নৌকাটি ছিল ছোট এবং এটির অবস্থা ছিল খারাপ। তা সত্ত্বেও এটিতে ঠাসাঠাসি করে ওঠেছিলেন অনেকে।

স্থানীয় চিকিৎসক নির্মল কুমার জানিয়েছেন, যে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুজন শিশু আছে। এ দুজনের অবস্থাই খারাপ। তাদের সবাইকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৈশালীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্তাসংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন, নদী থেকে ১৩ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার শোকবার্তায় বলেছেন, “বিহারের বৈশালীতে নৌকা উল্টে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এএফপি

নিখোঁজের চার দিন পর ধানক্ষেতে শিশুর মরদেহ, নেই মাথা ও অঙ্গের কিছু অংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম
নিখোঁজের চার দিন পর ধানক্ষেতে শিশুর মরদেহ, নেই মাথা ও অঙ্গের কিছু অংশ

বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের চার দিন পর ইউসুফ আলী (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের মাথা, হাত ও পায়ের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। ভারী কোনো বস্তুর আঘাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বালুয়াহাট গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইউসুফ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সোমবার স্বজনেরা সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, ভারী কোনো বস্তুর আঘাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহের মাথা, হাত ও পায়ের কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে। শিশুটিকে হত্যার কারণ এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক