মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বোদায় ১২০ বস্তা সার পাচারকালে জব্দ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ পিএম
বোদায় ১২০ বস্তা সার পাচারকালে জব্দ

পঞ্চগড়ের বোদায় অবৈধভাবে সরকারি সার পাচারের সময় ১২০ বস্তা বাংলা ড্যাপ (DAP) সারসহ একটি মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ‘নুরনবী এন্টারপ্রাইজ’ নামের এক সার ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, সার বিক্রি নিষিদ্ধ এবং ডিলারশিপ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে বোদা উপজেলার সাতখামার এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার নুরনবী এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে ১২০ বস্তা ড্যাপ সার একটি মাহিন্দ্রা গাড়িতে লোড করে পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলায় পাচার করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলরসহ এলাকাবাসী গাড়িটি হাতেনাতে আটকে দেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও বোদা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারসহ গাড়িটি জব্দ করে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম। সরকারি সার অবৈধভাবে পাচারের দায়ে তিনি নুরনবী এন্টারপ্রাইজকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ওই ডিলারের সার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়। জব্দ করা ১২০ বস্তা সার পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদ ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রঞ্জু ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম জানান, কৃষকদের সার নিয়ে যেকোনো কারচুপি বা কালোবাজারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে একই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ‘নুরনবী এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘তানিম এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার বাইরে গিয়ে এক পরিবারকে দুটি ডিলারশিপ দেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন

পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতি ‘বর্ণবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ অভিবাসী সংগঠনের প্রধান তিমোতেও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩১ এম
পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতি ‘বর্ণবাদী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ অভিবাসী সংগঠনের প্রধান তিমোতেও

পর্তুগাল সরকারের অভিবাসননীতিকে ‘বর্ণবাদী, বিদেশিবিদ্বেষী ও নব্য-ঔপনিবেশিক’ বলে সমালোচনা করেছেন দেশটির অন্যতম বৃহত্তম অভিবাসী সংগঠন সলিদারিয়েদাদে ইমিগ্রান্তে-এর প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাসেদো। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান অভিবাসনব্যবস্থায় আর্থিকভাবে সচ্ছল বিদেশি নাগরিক এবং নিজেদের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন এমন অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অভিবাসীরা প্রয়োজনীয় সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসা কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ করেন। পর্তুগালের অভিবাসন, সংহতি ও আশ্রয়বিষয়ক সংস্থা আইমা প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্ণ হবে।

ভাষা, ধর্ম ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিমোতেও মাসেদোর অভিযোগ, পর্তুগালের বর্তমান অভিবাসননীতিতে ভাষা, ধর্ম ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক মনোভাবের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর মতে, পর্তুগিজ ভাষাভাষী অভিবাসীদের কিছু ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পেছনে দেশটির রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে থাকা নব্য ঔপনিবেশিক মানসিকতা কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামবিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া বাড়ছে। ধর্মীয় পরিচয় ও গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে অভিবাসীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে এগুলো তিমোতেও মাসেদোর বক্তব্য ও মূল্যায়ন সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সরকারের স্বীকৃত অবস্থান বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

আইমা প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

পর্তুগালে অভিবাসন প্রশাসনের কাঠামো পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সাবেক অভিবাসনবিষয়ক উচ্চ কমিশনারের দপ্তর এসিএম এবং বিদেশি ও সীমান্তবিষয়ক পরিষেবা এসইএফ বিলুপ্ত করার পর আইমা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিমোতেও মাসেদোর মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সরাসরি পুলিশি কাঠামোর বাইরে আনার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক ছিল। তিনি ফ্রান্সের মতো অন্যান্য দেশের উদাহরণও উল্লেখ করেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, এর ফলে অভিবাসীদের জন্য আরও মানবিক ও কার্যকর সরকারি নীতি তৈরি হবে।

কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে পিএসডি ও সিডিএস দলের জোট সরকার সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

সাবেক এসইএফের কার্যক্রম নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, লিসবন বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক এলাকায় অভিবাসীদের ওপর হামলা, খাবারের অভাব এবং আটকে রেখে নির্যাতনের মতো ঘটনার বিষয়ে তাঁদের সংগঠন আগেই সতর্ক করেছিল।

ইউক্রেনীয় এক অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় এসইএফের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসনকে ‘ব্যবসায়’ পরিণত করার অভিযোগ

আইমার কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিমোতেও মাসেদো বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অভিবাসনসংক্রান্ত পরিষেবার কিছু অংশ বেসরকারি আইনজীবী, আইনগত প্রতিনিধি ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তাঁর অভিযোগ, এর ফলে অভিবাসীদের প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান পেতে আদালতের আশ্রয় নিতে হচ্ছে এবং আইনজীবীদের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসী সংগঠনগুলোকেও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, এভাবে নাগরিক সমাজের স্বাধীন ভূমিকা দুর্বল হচ্ছে। অনেক সংগঠন সরকারি প্রকল্পের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

তিমোতেও মাসেদোর ভাষায়, অভিবাসনব্যবস্থা এখন এমন একটি ব্যবসায়িক কাঠামোর দিকে যাচ্ছে, যেখানে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান পেতেও অভিবাসীদের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ পারিবারিক পুনর্মিলনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট?

পর্তুগালে অভিবাসীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর একটি হলো পারিবারিক পুনর্মিলন বা রিগ্রুপামেন্তো ফামিলিয়ার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা।

তিমোতেও মাসেদোর দাবি, প্রতিদিন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০টি পারিবারিক পুনর্মিলনসংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট হচ্ছে। তবে তাঁর অভিযোগ, এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদালতের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু অভিবাসীকে আইমার কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা প্রশাসনিক সাড়া পেতে প্রশাসনিক আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এ জন্য তাঁদের আইনজীবী নিয়োগ করতে হচ্ছে এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে আইমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে যাঁদের অর্থ আছে, তাঁরা আইনি পথে এগিয়ে যেতে পারছেন; কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল অভিবাসীদের পক্ষে সেই সুযোগ নেওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, “গরিবদের কোনো অধিকার নেই”এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

এখানে প্রতিদিনের ৩০০ থেকে ৪০০টি অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা এবং আদালতের মাধ্যমে সেগুলো পাওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির নেতার দেওয়া হিসাব ও অভিযোগ; প্রতিবেদনে এর স্বাধীন সরকারি পরিসংখ্যানগত যাচাই দেওয়া হয়নি।

কাজ না পেয়ে পর্তুগাল ছাড়ছেন অভিবাসীরা

তিমোতেও মাসেদোর মতে, অভিবাসীরা পর্তুগালে শুধু বসবাসের সুযোগ বা সরকারি সহায়তা নিতে আসেন না। তাঁরা কাজ করতে, অর্থনীতিতে অবদান রাখতে এবং নিজেদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে আসেন।

কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাব, দুর্ব্যবহার এবং মানবিক মর্যাদার প্রতি অসম্মান তাঁদের দেশটি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর দাবি, আগে নির্ভরশীল অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের প্রায় ৪০ শতাংশ ইতোমধ্যে পর্তুগাল ছেড়ে স্পেনসহ অন্যান্য দেশে চলে গেছেন। তাঁর মতে, এসব দেশে অভিবাসীদের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী সরকারি নীতি রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে এই ৪০ শতাংশের হিসাবের সময়কাল, মোট জনসংখ্যা কিংবা পরিসংখ্যানের উৎস বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি। তাই সংখ্যাটিকে তাঁর দেওয়া দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, পর্তুগালে অভিবাসীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এমন বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। বরং তাঁর মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দেশটি কর্মক্ষম অভিবাসীদের হারাচ্ছে।

ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি নিয়েও সমালোচনা

পর্তুগালের পিএসডি ও সিডিএস জোট সরকারের অভিবাসননীতি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি ইউরোপীয় অভিবাসন চুক্তি সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিমোতেও মাসেদো।

তাঁর অভিযোগ, পর্তুগাল সরকার ইউরোপের চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থানের প্রতি নতি স্বীকার করছে। তাঁর মতে, এসব নীতির ফলে অভিবাসীদের ওপর নজরদারি, বহিষ্কার এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসীদের একীভূতকরণের জন্য শুধু নামমাত্র আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে একটি পরিকল্পনার কথা থাকলেও সেটি কবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে তখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার অবহেলা নিয়েও প্রশ্ন

অভিবাসী ও নিম্ন আয়ের পর্তুগিজ নাগরিকদের বসবাসের কিছু এলাকার অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিমোতেও মাসেদো।

তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় আবর্জনা, দারিদ্র্য ও অবহেলিত জীবনযাত্রার সমস্যা যথাযথভাবে সমাধান করা হচ্ছে না। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায় এবং দরিদ্র পর্তুগিজ নাগরিকেরা সমাজের মূলধারা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

তিনি মনে করেন, এসব এলাকার উন্নয়ন, আবাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঘোষণা দিয়ে হুতিদের সানায় সৌদির বিমান হামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এম
ঘোষণা দিয়ে হুতিদের সানায় সৌদির বিমান হামলা

হুথি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সানার একটি তেল স্থাপনা থেকে সবাইকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি। এর এক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে হামলা হয়।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক সানায় বিস্ফোরণের শব্দের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইয়েমেনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সানার পশ্চিমাঞ্চলের একটি তেল স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সৌদি আরব থেকে যখন হামলার হুমকি দেওয়া হয় তখন হুথিরা পাল্টা হামলার হুমকি দেয়। এখন সৌদির বিমানবাহিনী সানায় হামলা চালাচ্ছে। আর নিজেদের ঘোষণা অনুযায়ী, হুথিরাও পাল্টা হামলা চালায় কি না সেটি এখন দেখার বিষয়।

হুথিরা তাদের হুমকিতে বলেছিল, যদি সৌদি আরব পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সানায় বিমান হামলা চালায় তাহলে সৌদির দাম্মামের আরামকোর সদর দপ্তর, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং রিয়াদের আরামকোর তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালানো হবে। এ সময় সেখানে থাকা সব সাধারণ মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বানও জানায় তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই হুথি ও সৌদির মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলছে। এরমধ্যে গত শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। এরপর থেকেই সৌদি হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

সেই হুমকির পর সানার তেল স্থাপনাকে টার্গেট করল তারা। এরফলে হুথিদের সঙ্গে সৌদির উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলো।

সূত্র: আলজাজিরা

সৌদির তিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ হুথিদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
সৌদির তিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে সবাইকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হুথিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার তেল স্থাপনায় পূর্বঘোষিত বিমান হামলা চালালে এর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে দাম্মামে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে অবস্থিত আরামকোর একটি তেল শোধনাগার। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে এসব স্থাপনা থেকে সরে যেতে এবং আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে গোষ্ঠীটি।

এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সানার তেল স্থাপনায় হামলার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত কয়েক দিন ধরে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি সংঘাত চলছে। গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে সৌদি আরব।

মঙ্গলবারও রিয়াদ লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সেগুলো কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কিংবা কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি।

সানায় সম্ভাব্য বিমান হামলার ঘোষণার পর হুথিদের পাল্টা হুমকিতে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক