বার্সেলোনার রাভাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ: দিনে ২/৩ বার ময়লা তুলেও কমছে না আবর্জনা
স্পেনের বার্সেলোনার রাভাল এলাকায় রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনে দুই থেকে তিনবার ময়লা সংগ্রহ করলেও রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব, নষ্ট আসবাবপত্র ও নির্ধারিত সময়ের বাইরে ফেলে রাখা বড় আকারের বর্জ্য। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
কাতালান সংবাদমাধ্যম বেতেভে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাভালের জোয়াকিন কোস্তা, ভিস্তালেগ্রে ও লা সেরা সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে আবর্জনা ফেলার পাত্রের বাইরে জমে থাকা ব্যাগগুলো নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ বেশি। অনেক সময় নির্ধারিত দিনে পুরোনো আসবাবপত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকলেও রাস্তায় ভাঙা আসবাব, এমনকি ফেলে দেওয়া ফ্রিজও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ইঁদুরের উপদ্রব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আবর্জনার স্তূপের কারণে নিচতলার কিছু বাসিন্দার বাড়ি থেকে বের হতেও অসুবিধা হচ্ছে। রাস্তায় ইঁদুরের চলাচল বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
ভিস্তালেগ্রে সড়কের এক বাসিন্দার ভাষ্য, বহু বছর ধরে একই সমস্যা চলছে। আবর্জনা ফেলার পাত্র পরিবর্তন করা হলেও সেগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। এলাকায় বাসিন্দা ও দোকানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, দিনে দুই থেকে তিনবার ময়লা সংগ্রহ করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার আবর্জনা জমে যায়। কার্ডবোর্ড, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের পাশাপাশি বড় আকারের ইঁদুরও দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে জোয়াকিন কোস্তা সড়কে বর্জ্য সংগ্রহের স্বয়ংক্রিয় বায়ুচালিত ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সাময়িকভাবে প্রচলিত আবর্জনার পাত্র বসাতে হয়েছে। গত সপ্তাহে বৃষ্টির কারণে যেসব পরিচ্ছন্নতার কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দলও মোতায়েন করেছে বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল।
নিয়ম না মানা ব্যক্তিদের জরিমানার দাবি
সব বাসিন্দা অবশ্য সমস্যার জন্য শুধু পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন না। কারও কারও মতে, কিছু মানুষ নিয়ম না মেনে আবর্জনার ব্যাগ পাত্রের বাইরে ফেলে যাচ্ছেন। এতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা সরিয়ে নেওয়ার পরও রাস্তায় দ্রুত আবার আবর্জনা জমে যাচ্ছে।
রাভাল বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবস্থাপক জর্দি বোরদাস বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দোকানপাটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিদর্শন চালিয়ে জরিমানা করা হলেও নিয়ম না মানা বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।
বাণিজ্যিক এলাকার প্রতিনিধিদের মতে, নিয়ম মেনে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এবার নিয়ম ভঙ্গকারীদের জরিমানার আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
পরিচ্ছন্নতায় সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের উদ্যোগ
বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সিউতাত ভেয়া জেলার চারটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য সংগ্রহের উন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘প্লা এন্দ্রেসা’ কর্মসূচি এবং সিউতাত ভেয়া চুক্তির আওতায় নেওয়া এই উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২৫ সালে শুরু হওয়া একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে। রাস্তায় আবর্জনার ব্যাগ, আসবাবপত্র ফেলে রাখা, দেয়ালে আঁকিবুঁকি এবং প্রস্রাব করার মতো সমস্যার বিরুদ্ধে ওই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
সিটি কাউন্সিলের পরিকল্পনায় রয়েছে পানি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ বাড়ানো, আবর্জনার পাত্র আরও ঘন ঘন ধোয়া, অতিরিক্ত ডাস্টবিন স্থাপন, দেয়ালের আঁকিবুঁকি দ্রুত মুছে ফেলা এবং আরও বেশি গণশৌচাগার স্থাপন। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দোকানপাটের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে পরিদর্শন জোরদার করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে রাস্তায় ফেলে রাখা আবর্জনার ব্যাগের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিশেষ করে রাভাল ও পুরোনো শহরকেন্দ্রে এই অগ্রগতি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিটি কাউন্সিল।
তবে বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগের সুফল তাঁরা এখনো দৈনন্দিন জীবনে যথেষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন না। সিটি কাউন্সিলও স্বীকার করেছে, পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতির উন্নতি একবারে হবে না; ধাপে ধাপে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু ময়লা সংগ্রহ নয়—নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে রাভালের রাস্তাগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।









