সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ পিএম
চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব ট্রাম্পের

তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগের জবাবে চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এ তথ্য জানিয়েছেন।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। স্বশাসিত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডেভিড পারডিউ জানান, গত সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন, ‘আমরা তো বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও অস্ত্র বিক্রি করি।’ এমনকি একপর্যায়ে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট সিকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র কিনতে চান কি না।

পারডিউ বলেন, ‘অন্যান্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট সি যখনই একসঙ্গে বসেন, তখনই তাঁরা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন।’ তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এর আগে গত জুনে চীন তাইওয়ানকে সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে কিংবা সামরিক উপায়ে স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় ওয়াশিংটন। এ প্রসঙ্গে পারডিউ বলেন, ১৯৭৯ সালের পর যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে তাইওয়ানের কাছে এটিই সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আবারও ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘বিচক্ষণতা’ দেখানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার কথাও বলেন।

এদিকে গত মে মাসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানের জন্য আসন্ন একটি অস্ত্রসহায়তা প্যাকেজকে চীনের সঙ্গে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাইওয়ানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রাকুল প্রীতের শ্বশুরসহ ১২ ঠিকানায় তল্লাশি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রাকুল প্রীতের শ্বশুরসহ ১২ ঠিকানায় তল্লাশি

বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং, তার শ্বশুর চলচ্চিত্র প্রযোজক বাসু ভগনানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুম্বাইয়ের ১২টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে প্যানোরামা স্টুডিওসও। সোমবার সকালে মুম্বাই আয়কর বিভাগের দলগুলো প্রায় ১২টি ঠিকানায় একযোগে এই তল্লাশি শুরু করে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র প্রকল্পের অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, চলচ্চিত্রের শুটিং, প্রযোজনা ও বিদেশে পরিবেশনের নামে কোনো অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কি না। অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি ও লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে এখন পর্যন্ত আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে তল্লাশিতে কোনো অনিয়ম বা কর ফাঁকির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় রাকুল প্রীত সিং, বাসু ভগনানি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে- এমন তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে, রাকুল প্রীতের ভাই আমান প্রীত সিংকে ঘিরে গত বছর একটি পৃথক মাদক মামলাও আলোচনায় এসেছিল।

২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এলিট অ্যাকশন গ্রুপ ফর ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট ও ওয়েস্ট জোন পুলিশের যৌথ অভিযানে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৩ গ্রাম কোকেন ও ১১ দশমিক ৫ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার করা হয়েছিল।

পুলিশের সন্দেহ ছিল, ওই দুই মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে আমান পাঁচবার মাদক কিনেছিলেন। সেই সূত্রে তাঁকে খোঁজা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে আমানকে ঘিরে ওই পৃথক মামলার বিষয়টি বর্তমান আয়কর বিভাগের তল্লাশির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত- এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগে তোফায়েল আলম টিটু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।

পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী শাহাদাত খান (২২) নামের এক তরুণের সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়। ওই পেজে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

পরে নারীসুলভ কণ্ঠে ফোন ও ইমোর মাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে কথা বলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে টিটুর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ জানান, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগমের ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাতের সঙ্গে ফেসবুকের ওই পেজের মাধ্যমে টিটুর পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের সময় প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পর বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে পিবিআই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের পর ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান বিভিন্ন তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর ২১ সেপ্টেম্বর টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে পরিচয়ের পর ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলে তিনি সম্পর্কটি বজায় রাখতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

 

এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজারের ওপরে

এক ধাক্কায় আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্র জানায়, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের বর্তমানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

আমদানিকারকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জাহাজসংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। আগে একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে অন্য পথ ব্যবহার করা যেত।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী ২০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

আমদানিকারকদের দাবি, বিশ্ববাজারে বাড়তি প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যরা জানান, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি বিইআরসির নির্ধারিত ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

তাদের মতে, নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তারা প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছেন। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদকদের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে না পৌঁছায় সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক