শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটিশদের নতুন ঠিকানা পর্তুগাল

পর্তুগাল প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
ব্রেক্সিটের পর ব্রিটিশদের নতুন ঠিকানা পর্তুগাল

পর্তুগালে বসবাসকারী যুক্তরাজ্যের নাগরিকের সংখ্যা গত দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এআইএমএ (পর্তুগালের অভিবাসন, সংহতি ও আশ্রয় সংস্থা) থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যেখানে ১৬ হাজার ৫৫৯ জন ব্রিটিশ নাগরিক পর্তুগালে বসবাসের অনুমতির জন্য নিবন্ধিত ছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ২৩৮এ, অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি।

এই প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যাগত নয়, বরং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন পরিকল্পনা ও ইউরোপ ধারণার গভীর পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। যে পর্তুগাল একসময় শুধু রোদ, সাগর আর সস্তা ছুটির গন্তব্য হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন ক্রমশ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী বসতির দেশে পরিণত হচ্ছে যুক্তরাজ্যের বহু নাগরিকের কাছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে অবাধ চলাচলের সুবিধা হারানো অনেক ব্রিটিশকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। শেনজেন অঞ্চলে ৯০/১৮০ দিনের নিয়ম, ভবিষ্যতের ইটিয়াস (ETIAS)–সহ কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে ইউরোপে থাকা বা ঘন ঘন আসা যাওয়া করতে চাইলে আনুষ্ঠানিক আবাসিকতা নেওয়া এখন অনেকের কাছেই কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই প্রেক্ষাপটে পর্তুগাল তুলনামূলক সহজ রেসিডেন্সি ভিসা, ভালো আবহাওয়া, তুলনামূলক সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশের কারণে আলাদা হয়ে উঠেছে। লিসবন, কাসকাইশ ও আলগার্ভ অঞ্চলে ব্রিটিশ পরিবার, অবসরপ্রাপ্ত ও উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; অন্যদিকে পোর্তো ও আশপাশের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছেন তরুণ রিমোট ওয়ার্কার ও ডিজিটাল নোম্যাডরা, যারা উন্নত ইন্টারনেট অবকাঠামো ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের সুবিধা নিচ্ছেন।

পর্তুগালের বিভিন্ন নীতি উদ্যোগও এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করেছে। অবসরপ্রাপ্ত ও প্যাসিভ আয়–নির্ভর ব্যক্তিদের জন্য D৭ ধরনের রেসিডেন্সি ভিসা, রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য পৃথক ভিসা, এবং বিনিয়োগ ও দক্ষতা ভিত্তিক ভিসা পথ ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। অনেকেই যুক্তরাজ্যের উচ্চ আবাসন খরচ, ট্রাফিক, এবং চাপপূর্ণ নগরজীবন থেকে বেরিয়ে এসে পর্তুগালের ছোট শহর বা সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে তুলনামূলক শান্ত জীবন বেছে নিচ্ছেন, যেখানে একই আয়ে বড় বাসা, ভালো আবহাওয়া এবং প্রতিদিন বাইরে বেরিয়ে হাঁটা বা সাইক্লিং এর সুযোগ পাওয়া যায়। বেশ কিছু ব্রিটিশ পরিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পর্তুগালে আসার পর তাদের শিশুদের স্কুলজীবন, পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্‌ সবকিছুই ইতিবাচকভাবে বদলেছে।

তবে এই বাড়তি জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। লিসবন ও পোর্তোর মতো শহরে বাড়িভাড়া ও সম্পত্তির দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে, যা স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ ফেলছে এবং ভাড়া–বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ভাষা শেখা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নতুন আইন কানুন বোঝার চ্যালেঞ্জও ব্রিটিশ নতুন আগতদের সামনে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, পর্তুগিজ সমাজের সাধারণ সহনশীলতা, ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের সুবিধা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজেশনের প্রসার অনেক ব্রিটিশের জন্য অভিযোজন প্রক্রিয়াকে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি বর্তমান নীতি ও অর্থনৈতিক প্রবণতা বড় কোনো ধাক্কা না খায়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পর্তুগালে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং তারা বিদেশি সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শীর্ষ সারির একটি গোষ্ঠী হিসেবেই থেকে যাবে। এই প্রেক্ষাপটে পর্তুগাল শুধু ছুটির দেশে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্রমেই এক বহুজাতিক, বহুসাংস্কৃতিক বসতি রাষ্ট্রে রূপ নিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢামেকে দুই হাজতির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৫ এম
কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢামেকে দুই হাজতির মৃত্যু

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দুই হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।

তারা হলেন- মোহাম্মদ ইফতেখার মাহমুদ (৩৬) ও মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসাইন পলাশ (৩৮)।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম জানায়, ইফতেখার মাহমুদের হাজতি (হাজতি নম্বর-২৯৬৯২/২৬) হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তার বাবার নাম মাহবুব আলম, বাসা রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কারাগারের ভেতরেই তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওইদিনই তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৯ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে কারারক্ষী মাসুম জানান, হাজতি তোফাজ্জল হোসাইন পলাশের বাবার নাম আলী হোসেন।বাসা দারুস সালাম থানার বাগবাড়ী এলাকায়। তার হাজতি নম্বর ৪৫৬৫/এ। বুধবার রাতেই হঠাৎ করে কারাগারে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তাকে ঢামেকে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে তারা কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশী ইমামের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৩ এম
বাংলাদেশী ইমামের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ

কোরিয়ার আনসান মসজিদের নিয়মতান্ত্রিক বাংলাদেশী ইমাম ও খতীব মুফতী ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কোরিয়ান তরুণীর ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার ((২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মুফতী ফয়জুল্লাহ আমানের হাতে কোরিয়ান তরুণী কিম চিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান দৈনিক আমার বার্তাকে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ! আজ কিছুক্ষণ আগে (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার) আনসান মসজিদে এক কোরিয়ান তরুণী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে মসজিদে ঘুরতে এসেছিলেন। খুব সংক্ষেপে আল্লাহ তাআলা, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের মৌলিক পরিচয় তার কাছে উপস্থাপন করলাম।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কোরিয়ান তরুণী কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, কোরিয়ান এই তরুণ কিছু প্রশ্ন করার পর আমি এসবের জবাব তাকে শোনালাম। জবাব পেয়ে এই তরুণী অনেক খুশি হলেন। আর কোনো বিলম্ব করলেন না। ইসলামের কালেমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করলেন।

তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর তার মুসলিম নাম রাখা হয় আয়েশা। তার কোরিয়ান নাম ছিল কিম চি।

প্রসঙ্গত আয়েশা এখন একজন কাজাখ মুসলিমকে বিয়ে করবেন। তবে বিয়ের জন্যই ইসলাম গ্রহণ করেছেন এমন নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান বলেন, ইসলাম প্রকৃতিগতভাবেই সরল ও সহজাত ধর্ম। অথচ ভুল ধারণা ও অপপ্রচারের কারণে অনেক অমুসলিম ইসলামকে ভয় পান। সুন্দর আচরণ, আন্তরিকতা ও সহজ ভাষায় ইসলামের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরলে সেই ভয় ও ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব।

তিনি বলেন, কোরিয়ার মাটিতে ইসলামের দাওয়াহর এমন সুন্দর মুহূর্তগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবমুসলিম বোন আয়েশাকে ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং তাঁর জীবনকে শান্তি ও কল্যাণে পরিপূর্ণ করুন।

ডেঙ্গুতে ২৫ দিনে ১১৪ মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০১ এম
ডেঙ্গুতে ২৫ দিনে ১১৪ মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার

গেল পঁচিশ দিনে ১১৪ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন চলতি বছরে আক্রান্ত ৭০ হাজার জন মানুষ। এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনেই ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ৯৫৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজার ১০৪ জন। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত দুজনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৮২৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৫৩ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের এই ২৫ দিনে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল ৪৩ জনের। এ ছাড়া জুলাই মাসে ৩৬, জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে মে মাসে ১, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক