সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মারণাস্ত্রের অর্থনীতি

ইরানের ২০ হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ এম
ইরানের ২০ হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

যুদ্ধের চিরাচরিত ইতিহাসে এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে স্টিলথ বা হাইপারসনিক প্রযুক্তির পেছনে ছুটছে, সেখানে ইরান খুব সাধারণ মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শাহেদ সিরিজের এই আত্মঘাতী ড্রোনগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত এক ত্রাসের নাম।

ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বারা তৈরি শাহেদ ১৩১ এবং ১৩৬ মডেলের ড্রোনগুলো আসলে ডেল্টা উইং আকৃতির ছোট একমুখী ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ ফোর সিলিন্ডার পিস্টন ইঞ্জিন, যার শব্দ অনেকটা ঘাস কাটার মেশিনের মতো।

কিন্তু এর কার্যকারিতা অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি ৪০ থেকে ৯০ কেজি পর্যন্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর ওপর চক্কর কাটতে সক্ষম। রকেট বুস্টারের সাহায্যে যেকোনো ট্রাক বা জাহাজ থেকে অনায়াসেই ছোড়া এই একেকটি ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ইরানের মূল রণকৌশল হলো ঝাঁকবদ্ধ হামলা। শাহেদ ড্রোনগুলো খুব ধীরগতিতে চলে এবং রাডারে এদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন। ইরান যখন একসাথে শত শত ড্রোন ছোড়ে, তখন প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যেমন আমেরিকার প্যাট্রিয়ট বা থাড দিশেহারা হয়ে পড়ে। এই ড্রোনগুলোর মূল কাজ হলো শত্রুর দামী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নষ্ট করা এবং রাডার ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা। এরপর সুযোগ বুঝে ইরান তাদের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়ে, যা সহজেই লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো খরচের ব্যবধান। ইরানের একটি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার একেকটির দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার।

অর্থাৎ, ইরান যদি ১০০টি ড্রোন পাঠায় যার মোট খরচ ২০ লাখ ডলার, তবে সেগুলো রুখতে যুক্তরাষ্ট্রকে খরচ করতে হবে ৪০ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক অসমতা পশ্চিমা বিশ্বকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজছে পেন্টাগন, কিন্তু সস্তা ড্রোনের বিপরীতে সস্তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো সফলভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

ইরানের এই কৌশলী সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্রও এখন তাদের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে কেবল দামী অস্ত্র দিয়ে সস্তা ড্রোন ঠেকানো সম্ভব নয়। ফলে পেন্টাগন এখন নিজেই সস্তা ও একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির পথে হাঁটছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই ড্রোনগুলোকে নাম দিয়েছে লুকাস, যার অর্থ স্বল্পমূল্যের চালকবিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা। প্রতিটি লুকাস ড্রোনের দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে টাস্কফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক নামে একটি বিশেষ ড্রোন স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। এটি পরিষ্কার যে ইরান যে ড্রোন কূটনীতি শুরু করেছিল, তা এখন পরাশক্তিগুলোকেও অনুকরণ করতে বাধ্য করছে।

২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে শাহেদ ড্রোনগুলো ইসরায়েলের আয়রন ডোমকে চরম পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। যদিও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্যের হার ৯০ থেকে ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বলে দাবি করা হয়, কিন্তু একটি ড্রোনও যদি সুরক্ষা প্রাচীর ভেদ করে কোনো তেল শোধনাগার বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানতে পারে, তবে তার ক্ষয়ক্ষতি কয়েকশ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। বর্তমানে ইউক্রেন এই ড্রোন মোকাবিলায় বিশেষ অ্যান্টি ড্রোন স্কোয়াড তৈরি করেছে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বিনিময়ে রাশিয়ার ওপর চাপের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ইরানের শাহেদ ড্রোন প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধে জয়ের জন্য সবসময় দামি অস্ত্রের প্রয়োজন হয় না, বরং কৌশলী ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি অনেক সময় বিশাল সামরিক বাজেটকে অর্থহীন করে দিতে পারে। ২০ হাজার ডলারের যন্ত্র দিয়ে ৪০ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করানো ইরানের এই অর্থনৈতিক সমরনীতি আধুনিক যুদ্ধবিদ্যার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহর শতবর্ষে জিবন অবসান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহর শতবর্ষে জিবন অবসান

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ-এর স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। শতবর্ষ বয়সে তিনি মারা গেছেন।

সোমবার কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির।
এদিকে সংসদে একটি টাউনহল অধিবেশন চলাকালে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হলে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। পরে তার সম্মানে সংক্ষিপ্ত ইসলামী দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তুন ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী হিসেবে দেশটির জনজীবনে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে হাইকমিশনের বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৪ এম
মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে হাইকমিশনের বিশেষ কনস্যুলার সেবা প্রদান

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর। দুই দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট বিতরণসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয়।

২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর পেনাংয়ের জর্জ টাউনের লিগা মুসলিম কমিউনিটি হলে এ বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের একটি প্রতিনিধি দল ক্যাম্প পরিচালনা করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দূরবর্তী এলাকা থেকে কুয়ালালামপুরে না গিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবার জন্য কর্মব্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন কমেছে।

ক্যাম্পে নতুন পাসপোর্টের জন্য এনরোলমেন্ট এবং প্রস্তুত পাসপোর্ট বিতরণের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন কনস্যুলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা বক্তব্য প্রকাশ, শেয়ার কিংবা প্রচারের আগে এর সত্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার জন্যও প্রবাসীদের সচেতন করা হয়।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা আরও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের বিশেষ সেবা কার্যক্রম আয়োজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

হাইকমিশনের এমন উদ্যোগের ফলে কুয়ালালামপুরের বাইরে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত কনস্যুলার সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ বা বিশেষ ক্যাম্প আয়োজন অব্যাহত থাকলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপকৃত হবেন।

মালয়েশিয়ায় মতবিনিময় সভায়-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৭ এম
মালয়েশিয়ায় মতবিনিময় সভায়-জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শুধু রেমিট্যান্স নয়, প্রবাসীদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নয়, বাংলাদেশ এখন ‘রিভার্স ড্রেইন’ চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের নতুন যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

শনিবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়াভিত্তিক শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দেশের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অদক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রবাসীদের দেশে ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রিভার্স ড্রেইন। দেশের মেধাবী ও দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।’

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কার্ডটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি কমিয়ে তাদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সিলেট থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য দেশে বিশ্বমানের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিশন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত একাডেমিয়া, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও নারী উদ্যোক্তাসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

তারা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সহসভাপতি তালহা মাহমুদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা, মালয়েশিয়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক