সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড

অভিবাসন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম
নেদারল্যান্ডসে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড

২০২৫ সালে নেদারল্যান্ডসে গৃহীত আশ্রয় আবেদনের তুলনায় প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা প্রথমবারের মতো বেশি হয়েছে। ডাচ জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (সিবিএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস (আইএনডি)-এর তথ্যানুযায়ী, গত বছর প্রায় ৮,১০০টি আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, যেখানে গৃহীত হয় ৭,৪০০টি। আগের বছরের তুলনায় এটি ৫৬ শতাংশ বেশি প্রত্যাখ্যানের রেকর্ড চিহ্নিত করছে।

ডাচ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ প্রত্যাখ্যান সিদ্ধান্ত এসেছে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে। একই সময়ে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াজাত হওয়ার হারও কমেছে—২০২৫ সালে মোট ৫,৬০০টি আবেদন সম্পূর্ণরূপে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। বছরের শেষে ৫০,০০০-এরও বেশি মানুষ আশ্রয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন।

অন্যদিকে, নতুন আবেদনকারীর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে প্রথমবার নেদারল্যান্ডসে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন প্রায় ২৪,০০০ জন, যা আগের বছরের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ কম। সরকার একই বছরে সহায়ক সুরক্ষার জন্য বরাদ্দ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়—২০২৪ সালের তুলনায় ৭০ শতাংশ হ্রাস। ফলে, গত বছর ৩,০০০ জনেরও কম আবেদনকারী এই মর্যাদা পান, যেখানে ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০,০০০-এর বেশি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সিরিয়ান আবেদনকারীদের জন্য ২০২৫ সাল ছিল সবচেয়ে কঠিন। দেশটিতে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান এবং আসাদ সরকারের পতনের পর ইউরোপীয় দেশগুলো, বিশেষত নেদারল্যান্ডস, সিরিয়ান আশ্রয় আবেদনগুলো পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে। জুন মাসে সাময়িক স্থগিতাদেশের পর আবেদন পুনরায় খোলার অনুমতি পাওয়া গেলেও, প্রত্যাখ্যানের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

২০২৫ সালে মাত্র ২৫ জন সিরিয়ান “সহায়ক সুরক্ষা” মর্যাদা পান, যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭,২০০। পূর্ণ শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০ জনকে—এক বছর আগে এটি ছিল ২,৯০০। সব মিলিয়ে, সিরিয়ান আবেদনকারীদের সাফল্যের হার নেমে দাঁড়ায় ২৮ শতাংশে, যেখানে আগের বছর তা ছিল ৯৫ শতাংশ।

২০২৫ সালে নেদারল্যান্ডস পূর্ণ শরণার্থী মর্যাদার আওতায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম স্থান বরাদ্দ করে। বছরজুড়ে সব জাতীয়তার মিলে মাত্র ৩,৪০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়—যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১,৯০০ জন কম। কিছু ঘাটতি পূরণের জন্য মানবিক সুরক্ষার আওতায় কিছুটা বেশি অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই শ্রেণির আওতায় এমন ব্যক্তিরা সুরক্ষা পান, যারা নিজ দেশে ফেরার পর গুরুতর ব্যক্তিগত বিপদের মুখে পড়তে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে চারজন আফগান নারী, যাদের তালেবান শাসনে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঝুঁকির বিবেচনায় নেদারল্যান্ডসে থাকার অনুমতি পান।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নেদারল্যান্ডস আগামী বছরগুলোতে আরও কঠোর আশ্রয় নীতি অনুসরণ করতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে।

রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তার জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলার পর গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় দফায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত

এ মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

নতুন আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম
নতুন আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

মুম্বাইয়ে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি না পাওয়ার পর আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ বা গণগ্রেপ্তার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ভারতের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

সিজেপি আগে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। দলটির কর্মসূচির অন্যতম বিষয় ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে পরিবর্তনের দাবি। মুম্বাই পুলিশ প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার পর ডিপকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ঘোষণা দেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডিপকে বলেন, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া নাগরিকদের কণ্ঠস্বর দমনের প্রচেষ্টা। তিনি জানান, প্রতিবাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে জেল ভরো আন্দোলন শুরু করবে সিজেপি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে আসামেও সিজেপির নেতা-কর্মীদের আটককে কেন্দ্র করে দলটির সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। রোববার গুয়াহাটিতে সংগঠনটির আঞ্চলিক স্বেচ্ছাসেবক সভার আগে সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জনের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ স্বেচ্ছাসেবক সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় রাঙ্কাসহ নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়। রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আসামের স্কুল, কাজিরাঙা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংগঠনটির কর্মসূচির কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে, তবে দলটির অভিযোগের সবগুলো দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে রাঙ্কা ও অন্যদের মুক্তি না দিলে আসামে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পরে আটক নেতা-কর্মীদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, শিবাজি পার্কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি আদেশসহ সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে।

 

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রাকুল প্রীতের শ্বশুরসহ ১২ ঠিকানায় তল্লাশি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে রাকুল প্রীতের শ্বশুরসহ ১২ ঠিকানায় তল্লাশি

বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিং, তার শ্বশুর চলচ্চিত্র প্রযোজক বাসু ভগনানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুম্বাইয়ের ১২টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ভারতের আয়কর বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে প্যানোরামা স্টুডিওসও। সোমবার সকালে মুম্বাই আয়কর বিভাগের দলগুলো প্রায় ১২টি ঠিকানায় একযোগে এই তল্লাশি শুরু করে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র প্রকল্পের অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, চলচ্চিত্রের শুটিং, প্রযোজনা ও বিদেশে পরিবেশনের নামে কোনো অর্থ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কি না। অভিযানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি ও লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তবে এখন পর্যন্ত আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে তল্লাশিতে কোনো অনিয়ম বা কর ফাঁকির বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় রাকুল প্রীত সিং, বাসু ভগনানি বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে- এমন তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে, রাকুল প্রীতের ভাই আমান প্রীত সিংকে ঘিরে গত বছর একটি পৃথক মাদক মামলাও আলোচনায় এসেছিল।

২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর এলিট অ্যাকশন গ্রুপ ফর ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট ও ওয়েস্ট জোন পুলিশের যৌথ অভিযানে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৩ গ্রাম কোকেন ও ১১ দশমিক ৫ গ্রাম এমডিএমএ উদ্ধার করা হয়েছিল।

পুলিশের সন্দেহ ছিল, ওই দুই মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে আমান পাঁচবার মাদক কিনেছিলেন। সেই সূত্রে তাঁকে খোঁজা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে আমানকে ঘিরে ওই পৃথক মামলার বিষয়টি বর্তমান আয়কর বিভাগের তল্লাশির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত- এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক