ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন: শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের ঢল
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার আগে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করেন। এরপর বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। পরে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সর্বশেষ বক্তব্য দেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
বক্তব্যে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শরিফ ওসমান হাদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে জনগণের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা রেখে গেছেন। তিনি জানান, হাদির একটি আট মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। সন্তানের জন্মের সময় নামকরণের বিষয়ে হাদি তার কাছে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসের প্রতিফলন ঘটবে—এমন নাম বাছাইয়ের কথা বলেছিলেন। এ বক্তব্যের সময় জানাজায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এরপর আবু বকর সিদ্দিক জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে শাহবাগের দিকে রওনা দেওয়া হয়।
জানাজায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানও। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় যোগ দেন।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিদের অংশগ্রহণে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আসাদগেট, ফার্মগেট ও খামারবাড়ি এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে দলবদ্ধভাবে মানুষ জানাজাস্থলে আসেন। এ সময় ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা।
সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সংসদ ভবনের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয়। তার আগে থেকেই সংসদ ভবনের সামনের সড়কে মানুষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, শাহবাগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শরিফ ওসমান হাদির দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শনিবার দুপুরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের কাজী নজরুল ইসলাম স্কয়ারে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে রিকশায় চলার সময় ওসমান হাদির ওপর হামলা হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।














