চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দলগুলো নানা বক্তব্য দেয়, তবে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই: আইন উপদেষ্টা
৯ নভেম্বর রবিবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ছবি- সংগৃহীত।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বা অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই। সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।
রোববার সকালে রাজশাহী লিগ্যাল এইড অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বা চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নানা বক্তব্য দেয়। এসব শুনে অনেকে মনে করতে পারেন নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই হবে। বিলম্বের কোনো সম্ভাবনা আমরা দেখছি না, কিংবা বিকল্প কোনো পরিকল্পনাও সরকারের মাথায় নেই।”
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্য যেমনই হোক না কেন, আমি বিশ্বাস করি সবাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখেন। সরকার চাইছে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে ভোটকে ঘিরে জনগণের মধ্যে আস্থা, আনন্দ ও অংশগ্রহণ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় অনেক নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হয়নি। “আমাদের দেশে প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অনেক মানুষ আছেন, যারা কখনোই ভোট দেননি—এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি হতে পারে,” উল্লেখ করেন তিনি।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “এখন মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব। চারদিকে পোস্টার-ব্যানার আর নির্বাচনী প্রস্তুতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, জনগণ নির্বাচনকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত।”
রাজশাহী সফর সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা জানান, “গতকাল টিটিসি পরিদর্শনে ছিলাম, আজ এসেছি লিগ্যাল এইড অফিস দেখতে। আমরা লিগ্যাল এইড সেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছি। এখন থেকে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে একজন বিচারকের স্থলে তিনজন বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০টি জেলায় এ উদ্যোগের আওতায় ১২ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে রাজশাহীও খুব শিগগির অন্তর্ভুক্ত হবে।
স্থান সংকুলানের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। “আইনগত সংস্কারের ফল তাত্ক্ষণিকভাবে দেখা না গেলেও এর সুফল মানুষ পাবে—মামলার খরচ ও ভোগান্তি দুটোই কমবে,” তিনি যোগ করেন।
আসামিদের জামিন প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জামিনের সিদ্ধান্ত শুধু বিচারকের ওপর নির্ভর করে না; পুলিশের প্রতিবেদনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রমাণ থাকলে (যেমন ভিডিও বা অডিও) ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যেখানে আইনি যোগ্যতা আছে, সেখানে আসামি জামিন পাবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা জামিন পেয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াতে পারে বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।”
এর আগে সকাল ৯টার দিকে আসিফ নজরুল রাজশাহী লিগ্যাল এইড অফিস পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় জেলা লিগ্যাল এইডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।













