‘অপারেশন এপিক ফিউরি’: ৪২ মার্কিন বিমান-ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সামরিক অভিযানে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জন্য প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আকাশ, সমুদ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে চলা এই সংঘাত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে এলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলা শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখনো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে তাদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে ১২ মে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস ডব্লিউ. হার্স্ট তৃতীয় জানান, ইরানে অভিযানের ব্যয় বেড়ে ২৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর বড় একটি অংশ সামরিক সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া ৪২টি উড়োজাহাজের মধ্যে চালকবিহীন ড্রোনও রয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং বিভিন্ন ঘটনার দায় নির্ধারণের কারণে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের পক্ষের গুলিতে তিনটি বিমান ধ্বংস হয়। এ ঘটনায় ছয়জন ক্রু নিরাপদে বের হয়ে উদ্ধার হন। পরে ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরেকটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। ওই বিমানের দুই ক্রুকেও উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান ইরানের স্থলভিত্তিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল আক্রমণকারী বিমানও শত্রুপক্ষের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের সময় সেটি বিধ্বস্ত হয়। তবে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতির মুখে পড়ে। এর মধ্যে একটি ইরাকে বিধ্বস্ত হয়ে ছয় ক্রুর মৃত্যু হয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া একটি ই-৩ সেন্ট্রি আর্লি ওয়ার্নিং বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির তালিকায় রয়েছে চালকবিহীন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার হারিয়েছে। পাশাপাশি একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।
ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে আকাশপথে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।










