শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ পিএম
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৬ শিশুর মৃত্যু

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যেন নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে ছয়টি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো উপজেলা আজ স্তব্ধ। যে উঠানগুলোতে গতকালও শিশুদের হাসি-আনন্দ, দৌড়ঝাঁপ আর কোলাহলে মুখর ছিল, আজ সেখানে শুধুই কান্নার রোল, স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর নিস্তব্ধতার দীর্ঘশ্বাস।

প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গতকাল উপজেলার বড়কান্দা এলাকায়। গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। চারটি শিশুর নিথর দেহ একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, কিছুক্ষণ আগেও যারা হাসিমুখে খেলাধুলা করছিল, তারা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।

এই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই গতকাল শুক্রবার আবার রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলোয়ারচর গ্রামে ঘটে আরেকটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। চকের পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় আরও দুই শিশু। দ্বিতীয় দিনের এই মৃত্যুর খবরে পুরো উপজেলাজুড়ে আবারও নেমে আসে শোকের ছায়া। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ছয়টি শিশুর মৃত্যু রায়পুরার মানুষের হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

নিহত শিশুদের বাড়িগুলোতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি। সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে মায়েদের বিলাপ উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করেছে। বাবারা নির্বাক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। গ্রামের অলিগলি, উঠান আর প্রতিটি ঘরে যেন একটাই প্রশ্ন—এত ছোট ছোট প্রাণগুলো এভাবে কেন ঝরে গেল?

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সামান্য অসাবধানতাই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, শুধু পরিবারের দায়িত্বই নয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশুদের সাঁতার শেখানো, ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনায় রায়পুরার মানুষ আজ গভীরভাবে শোকাহত। ছয়টি নিষ্পাপ শিশুর অকাল বিদায়ে পুরো উপজেলায় নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। স্বজনদের চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদ যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে- একটু সচেতনতাই হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারত এই ছয়টি কোমল প্রাণ।

নিহতরা হলো শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলোয়ারচর গ্রামের নূরউজ্জামানের মেয়ে জান্নাতি (৮) এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে নিপা (৭)। নিহতরা পরস্পর মামাতো-ফুফাতো বোন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামে পাশের খালে গোসল করতে নেমে বড়কান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), রুবেল মিয়ার মেয়ে জান্নাতি এবং বাদল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়। তারা সবাই গাউছিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মজিবুর রহমান।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক