২২০০ জীবিত পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা, চীনা নাগরিককে জরিমানা ও কারাদণ্ড
কেনিয়ায় ২,২০০টিরও বেশি জীবিত পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে এক চীনা নাগরিককে ১২ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ শিলিং (প্রায় ৭,৭৪৬ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছে দেশটির আদালত।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) নাইরোবির একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ঝাং কেকুনকে গত মাসে নাইরোবির জোমো কেনিয়াত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার লাগেজ তল্লাশি করে ২,২০০টিরও বেশি জীবিত গার্ডেন পিঁপড়া উদ্ধার করা হয়।
মামলায় বিচারক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পিঁপড়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। তাই এ ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন, যাতে এটি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।
তদন্তে জানা গেছে, এসব পিঁপড়া মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে চীনের শৌখিন সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। ওই বাজারে “ফর্মিকারিয়াম” নামে স্বচ্ছ পাত্রে পিঁপড়ার কলোনি তৈরি করে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার জন্য অনেক সময় উচ্চমূল্যও পরিশোধ করা হয়।
প্রথমে ঝাং কেকুন অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
এ ঘটনায় আরও এক কেনিয়ান নাগরিক চার্লস মওয়াঙ্গির নাম উঠে এসেছে, যিনি পিঁপড়াগুলো সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
বিচারক আইরিন গিচোবি বলেন, পরিবেশগত ক্ষতি এবং বন্যপ্রাণী পাচারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের অপরাধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগেও কেনিয়ায় হাজার হাজার পিঁপড়া পাচারের চেষ্টা ধরা পড়েছিল এবং একই ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।






