স্বাধীনতা দিবস
সাভারে লাখো মানুষের ঢলে বীর শহীদদের প্রতি জাতির পরম শ্রদ্ধা
আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শুরু হয়েছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রাম, যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
দিবসটি উপলক্ষে ভোর থেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সকাল ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের প্রতি গভীর সম্মান জানান।
পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিউগলের সুর ও রাষ্ট্রীয় সালামের মধ্য দিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে গাম্ভীর্যপূর্ণ।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৭টার পর স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপরই হাজারো মানুষ ফুল হাতে শহীদ বেদির দিকে এগিয়ে আসেন।
লাল-সবুজ পোশাক, জাতীয় পতাকা এবং নানা ব্যানার-ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক মিলনমেলায়।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধায় তৈরি হয় এক প্রতীকী পুষ্পশয্যা।
অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে এসেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে। শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা আর তাদের উচ্ছ্বাস নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমের বার্তা দিচ্ছে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিচারণ করেছেন একাত্তরের দিনগুলোর কথা। উপস্থিত জনতা উচ্চারণ করেছেন বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আমিনবাজার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন নজরদারিও চালু রয়েছে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ আজ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি স্বাধীনতার ইতিহাস, ত্যাগ ও জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক।











