সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত আহম্মেদ আলীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহম্মেদ আলীর মরদেহবাহী বিমান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ছবি- সংগৃহীত।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহম্মেদ আলীর মরদেহবাহী বিমান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ছবি- সংগৃহীত।
রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় রাড্ডা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে শিগগিরই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে শাহ আলী থানার অধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি প্রাচীর টপকে প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা সেখানে থাকা দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে আটকে রাখে। পরে হ্যামার ও ভেকু দিয়ে সীমানাপ্রাচীরসহ প্রতিষ্ঠানের একাধিক সেবা কক্ষ ভেঙে ফেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ক্লিনিকে থাকা ওষুধপত্র, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, এসি ও ফ্রিজসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ভবন ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও প্রায় ২৯ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো।
বেসরকারি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অপরাধ প্রমাণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিপুল পরিমাণ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছে গাম্বিয়া।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পরও অনেক প্রভাবশালী দেশ কার্যকরভাবে এগিয়ে না আসায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে ওআইসির সদস্য দেশ গাম্বিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাটির মূল শুনানি চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে।
গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা এ. জালো জানান, মামলার শুনানিতে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আদালতে হাজির করে তাদের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদন, এনজিওর রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যসহ নানা ধরনের প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আমরা যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছি, তার পরিমাণ অনেক। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির করে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ছবি, প্রতিবেদন ও এনজিওর রিপোর্টসহ নানা ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে পেশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলার মূল শুনানি গত জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে উল্লেখ করে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী জানান, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তার মতে, রায় অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বরের শুরুর দিকে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের মিয়ানমারের নিজস্ব আইনের আওতায় বিচারের নির্দেশও আদালত দিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
দাউদা এ. জালো বলেন, আদালতে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ উপস্থাপন করায় আমরা আশাবাদী যে আদালত গাম্বিয়ার সঙ্গে একমত হবে এবং মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী সাব্যস্ত করবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন প্রতিকারের দাবিও জানিয়েছে দেশটি।
এসব দাবির মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিজ নিজ ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, হারানো সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার।
মিয়ানমার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় না মানলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আইসিজের রায়কে শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলেও মত দিয়েছেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে প্রায় এক থেকে দেড় শ লোক স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এ সময় সালমান মুক্তাদির রাজধানীতে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখেন তিনি।
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় হামলার সম্ভাব্য কারণ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সালমান মুক্তাদির বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে যে চাঁদা দেয়নি, এ জন্য হামলা করা হয়েছে। এখন চাঁদা দেয়নি এটা তো…আমার কাছে চায়ওনি, চাইলে আমি ডেফিনেটলি দিতাম, যদি আমার পোষাত অবশ্যই দিতাম। কিন্তু উনারা কেন দেয়নি, কত টাকা দেয়নি, এ ব্যাপারে আমার আইডিয়া নেই। এই তথ্য আমি পুলিশের কাছে শুনলাম, বাইরের লোকজনের কাছে শুনলাম।
সালমান বলেন, ওরা মূলত ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চেয়েছিল। টার্গেট করেছিল মালিককে। আমি মাঝখানে পড়ে গিয়েছি। ওরা হয়তো জানতো না এটা আমার স্টুডিও।
তিনি আরও বলেন, যে কারণেই হোক না কেন, হয়েছে তো বাংলাদেশে। এটা স্বীকার করতে হবে, এটাই বাংলাদেশ। আমি ভেবেছি আমার প্রতি শত্রুতা, পরে দেখি পুরো প্রজেক্টেই হামলা চালানো হয়েছে। প্রজেক্ট নিয়ে কিছু হয়েছে, এটাই আমি নিশ্চিত হয়েছি। এ সময় এসব হওয়ার কথা ছিল না, এমনটা হবে বলে ভাবেননি। তবে এসব ঘটনা চলতেই থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সালমান বলেন, তিনি এ ঘটনায় কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না এবং আইনের প্রতি তার কোনো বিশ্বাস নেই। আইনের ব্যাপারে তিনি ‘নাস্তিক’ বলেও মন্তব্য করেন।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, তার স্টুডিওতে নিয়মিত অনেক শুটিং হয় এবং সেখানে অনেক মানুষের কাজ থাকে। তবে ভাঙচুরে আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে দেশে কিংবা বিদেশে থেকে নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন সালমান।
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় এক থেকে দেড় শ লোক হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তবে হামলায় স্টুডিওতে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রিয়েল এস্টেট প্রকল্পটির জমির মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি চাঁদা না দেওয়ায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এর আগে ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।
সালমান মুক্তাদির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে বলেন, এই ভিডিওটা বিশেষভাবে বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নেবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ (এটা বাংলাদেশে স্বাভাবিক ঘটনা)।
অন্য এক ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরের একটি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।