যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকছেন শুধু নারীরা
যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকছেন শুধু নারীরা. ছবি: এআই(Ai)
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটকেন্দ্রে নারীদের অংশগ্রহণ না থাকার বাস্তবতা বদলাতে সেখানে নারী ভোটারদের জন্য সম্পূর্ণ নারী ব্যবস্থাপনায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭০-এর দশকে জৈনপুরের এক পীরের অনুরোধের পর থেকেই রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা নিয়মিতভাবে ভোটদানে বিরত থাকেন। যদিও হাট-বাজারসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডে নারীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি প্রায় অনুপস্থিত ছিল। মাঝেমধ্যে দু-একজন নারী ভোট দিলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নেয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের নির্দেশনায় রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটটি ভোটকেন্দ্রে নারীদের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ওই আটটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের জন্য মোট ২০টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বুথে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সব দায়িত্বে রাখা হয়েছে নারী কর্মকর্তাদের। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাপনা তদারকিতে দায়িত্ব পালন করবেন একজন নারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ ছাড়া প্রার্থীদের প্রতিটি বুথে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, নারীদের পর্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি জানাতে ইতোমধ্যে ইউনিয়নজুড়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এবার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন।”
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট নারী ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন। প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোটবিমুখতার সংস্কৃতি বদলাবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।









