আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে নতুন আঙ্গিকে। প্রথমবারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে অংশ নেবে ৪৮টি দল। তিন স্বাগতিক দল ছাড়া বাকি ৪৫টি দল বেছে নেওয়া হবে বাছাইপর্ব থেকে।
আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার খেলা আগে থেকেই নিশ্চিত। বাছাইয়ের বাধা পেরিয়ে ইতোমধ্যে আরও চারটি দল বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। তারা হলো জাপান, নিউজিল্যান্ড, ইরান ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মেক্সিকো ১৮তম বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। এর আগে এককভাবে দুবার আয়োজক ছিল তারা, ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি হতে যাচ্ছে দ্বাদশ বিশ্বকাপ। ১৯৯৪ সালে এককভাবে স্বাগতিক ছিল তারা। কানাডা আগে কখনও বিশ্বকাপ আয়োজন করেনি। ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের পর তৃতীয়বারের মতো তারা থাকবে বিশ্বকাপের মঞ্চে।
বাছাইপর্ব থেকে প্রথম দল হিসেবে গত ২০ মার্চ বিশ্বকাপে ঠাঁই করে নেয় এশিয়ার দল জাপান। সেদিন তারা ঘরের মাঠে বাহরাইনকে হারায় ২-০ গোলে। এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে 'সি' গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে দলটি। তাদের পয়েন্ট ৮ ম্যাচে ২০। টানা ও সব মিলিয়ে অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা।
চারদিন পর জাপানের সঙ্গী হয় নিউজিল্যান্ড। ওশেনিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের ফাইনালে তারা নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় নিউক্যালিডোনিয়াকে। এটি হতে যাচ্ছে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ। এর আগে ১৯৮২ ও ২০১০ সালের আসরে অংশ নিয়েছিল তারা।
এশিয়ার আরেক দল ইরান বিশ্বকাপ গত ২৫ মার্চ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নাম লেখায়। ঘরের মাঠে তারা সেদিন দুবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে উজবেকিস্তানের সঙ্গে। 'এ' গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান সবার ওপরে। ৮ ম্যাচে খেলে তাদের অর্জন ২০ পয়েন্ট। টানা চতুর্থ ও সব মিলিয়ে সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপে উঠেছে দলটি।
পরদিন বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। মাঠে নামার আগেই তারা পেয়ে যায় সুখবর। উরুগুয়ের সঙ্গে বলিভিয়া ড্র করায় নিশ্চিত হয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ ছয়ের মধ্যে থাকবে আর্জেন্টিনা। এরপর খেলতে নেমে নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় তারা। বাছাইয়ে ১৪ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে আছে দলটি। টানা ১৪তম ও সব মিলিয়ে ১৯তম বারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে তারা।
আরও ৪১টি দল ঠাঁই পাবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে সুবিধাজনক স্থানে। এশিয়া থেকে সরাসরি অংশ নেবে আরও ছয়টি দল। সেই দৌড়ে এগিয়ে আছে উজবেকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া। লড়াইয়ে টিকে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইরাক, ওমান, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া।
আফ্রিকা অঞ্চল থেকে নয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। শক্ত অবস্থানে রয়েছে মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরক্কো, আলজেরিয়া, ঘানা ও তিউনিসিয়া। উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে ডিআর কঙ্গো, সেনেগাল, সুদান, কেপভার্দে, ক্যামেরুন, আইভরিকোস্ট, গ্যাবন, কমোরোস ও মোজাম্বিকের।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে আরও পাঁচটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে ঠাঁই নেবে। সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও কলম্বিয়া। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল থেকে আরও তিনটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। তবে বাছাইয়ের তৃতীয় ও শেষ রাউন্ড এখনও শুরুই হয়নি। ওশেনিয়া অঞ্চলের মূল বাছাইপর্ব শেষ নিউজিল্যান্ডের সরাসরি বিশ্বকাপে ওঠার মাধ্যমে। নিউক্যালিডোনিয়া খেলবে আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠেয় আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ পর্বে।
ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্ব শুরু হয়েছে চলতি মাসে। ১৬টি সরাসরি স্থানের জন্য ১২ গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে দলগুলোকে। ছয়টি গ্রুপের খেলা মাঠে গড়িয়েছে। বাকি ছয়টির শুরু হবে আগামী সেপ্টেম্বরে।
মন্তব্য করুন