এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগ শুরু করলেও প্রথমে গোল করে পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল সেল্টিক। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের মাঠেই হারানোর স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে স্কটিশ ক্লাবটির।
সেইসঙ্গে তাদের শেষ ষোলোয় ওঠার স্বপ্নও ডুবেছে হতাশার অন্ধকারে। মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম পর্বের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে সেল্টিকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বায়ার্ন।
এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে উঠেছে বাভারিয়ানরা। গত সপ্তাহে স্কটিশ দলটির মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
এদিন জমাট রক্ষণে ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রেন্ডন রজার্সের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয় তার শিষ্যরা। এর ফলও পায় তারা। ৬৫ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ৭টি শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারে না বায়ার্ন, অর্থাৎ প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের আটকে রাখতে সমর্থ হয় সেল্টিক।
একই পরিকল্পনা ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ খানিকক্ষণ বায়ার্নকে আটকে রাখে দলটি। এরপর ৬৩তম মিনিটে গোল পেয়ে অগ্রগামিতায় ২-২ সমতা টেনে বায়ার্নকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সেল্টিক।
তবে গোল দেওয়ার পর বায়ার্নের আক্রমণের তোড়ে সেল্টিকের দুই লাইনের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়। তারপরও নির্ধারিত সময়, এমনকি যোগ করা চার মিনিটের প্রায় সবটুকুই কেইন-মুসিয়ালাদের আটকে রেখে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল স্কটিশরা। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বায়ার্নের ২৩তম শটটি আর ফেরাতে পারেনি সেল্টিক।
এ সময় লিওন গোরেটস্কার শট আটকে দিলেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি সেল্টিক গোলরক্ষক কাস্পার স্মাইকেল। ফিরতি বল তাদের একজন ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন, তবে সেখানে ছুটে যাওয়া ডেভিসের পায়ে লেগে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তের গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আলিয়ান্স আরেনা। আর ভগ্ন হৃদয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের তৎকালীন ইউরোপীয় কাপ জয়ীদের।
এদিকে, দিনের প্রথম ম্যাচে চমক দেখিয়েছে ডাচ ক্লাব ফেয়েনুর্ড। প্রথম লেগে ১-০ গোলে স্মরণীয় জয়ের পর দ্বিতীয় লেগ সান সিরোতে এসি মিলানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ২-১ অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দলটি। আর এতে করে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মিলানকে।
এছাড়া, আসরের শুরুর কয়েক ম্যাচ অপরাজিত থেকে দীর্ঘ এক যাত্রার ইঙ্গিত দিলেও প্রথমে শুরুর আট দল থেকে ছিটকে যাওয়া এবং তারপর প্লে-অফে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে গাস্পেরিনির আতালান্তাকে। একই সঙ্গে প্রথম লেগে ২-১ গোলে জেতার পর দ্বিতীয় লেগেও দুর্দান্ত ৩-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ক্লাব ব্রুজ।
অপর ম্যাচে মোড়ের পর মোড় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়েছে বেনফিকা ও মোনাকোর মধ্যকার দ্বিতীয় লেগ। তবে প্রথম লেগে মোনাকোর মাঠ থেকে ১-০ গোলে জিতে থাকায় ৪-৩ অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেনফিকাই।
এর ফলে শেষ ষোলোর ১২ দল নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার রাতে অবশিষ্ট চার ম্যাচ থেকে বাকি চার দল চূড়ান্ত হবে। এই দিনের সবচেয়ে বড় আর্ষণ থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার লড়াই।
মন্তব্য করুন