আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। রাজপথের কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন দুটি নাম: বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কে হবেন আগামী দিনের রাষ্ট্রক্ষমতার চালক—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে অনেকেই দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড় হিসেবে। দীর্ঘদিন পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিএনপির জনসভাগুলোতে তার উপস্থিতিতে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তৃতায় তিনি ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ এবং নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর তার সরাসরি মাঠে নামা বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে ‘ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার কথা। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তরুণ ভোটারদের কাছে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোচ্ছে, দুই নেতার বক্তব্যেও তীব্রতা বাড়ছে। তারেক রহমান অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএনপিকেই শাসনের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করছেন। বিপরীতে, ডা. শফিকুর রহমান বলছেন—যারা অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, জনগণ তাদের আর সুযোগ দেবে না।
বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন এগিয়ে আছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে জামায়াতের রয়েছে একটি দৃঢ় ও সংগঠিত ভোটব্যাংক, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাধারণ ভোটারদের বড় অংশের প্রত্যাশা এখন স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তারা দেখছেন ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের সুযোগ হিসেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বড় দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা। অপরদিকে, ডা. শফিকুর রহমানের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সংগঠিত দলীয় কাঠামো তাকে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াত-জোটের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই নির্ধারণ করবেন—কার হাতে যাবে আগামীর বাংলাদেশ।