দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ভুলবশত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন পাঠিয়ে দিয়েছে। পরে এ ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এত বড় পরিমাণ বিটকয়েন স্থানান্তরের ফলে প্ল্যাটফর্মটিতে সাময়িকভাবে বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘বিথাম্ব’ নামের ওই এক্সচেঞ্জটি দুর্ঘটনাক্রমে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার বিটকয়েন বিভিন্ন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে ফেলে। বর্তমান বাজারদরে এসব বিটকয়েনের মূল্য ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।
শুক্রবার ত্রুটিটি শনাক্ত হওয়ার ৩৫ মিনিটের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ৬৯৫ জন ব্যবহারকারীর ট্রেডিং কার্যক্রম ও অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একটি প্রচারণামূলক অফারের আওতায় বিথাম্বের প্রতিটি গ্রাহককে ২ হাজার ওয়ান (প্রায় ১ দশমিক ৩৭ ডলার) পাঠানোর কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্রাহকপ্রতি প্রায় ২ হাজার বিটকয়েন পাঠানো হয়, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
শনিবার এক বিবৃতিতে বিথাম্ব জানায়, প্রচারণামূলক ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণের সময় বিভ্রান্তির কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ভুলবশত পাঠানো বিটকয়েনের প্রায় ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ ইতোমধ্যে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় যে সামান্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা বিথাম্ব নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে।
বিথাম্ব আরও স্বীকার করেছে, ভুলবশত পাওয়া বিটকয়েন কিছু গ্রাহক বিক্রি শুরু করায় প্ল্যাটফর্মে বিটকয়েনের দামে তীব্র ওঠানামা দেখা দেয়। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তাদের প্ল্যাটফর্মে বিটকয়েনের দাম সাময়িকভাবে ১৭ শতাংশ কমে ৮ কোটি ১১ লাখ ওয়ানে নেমে আসে।
বিথাম্ব কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, এই ঘটনাটি কোনো ধরনের হ্যাকিং বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ফল নয়।