জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা থাকবে না।
তারেক রহমান বলেন, জামায়াত কতটি আসন পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে দলটির জোট শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের নেতারা দাবি করছেন, ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি তারেক রহমান।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে অবস্থানের পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরা ঘটে। শেখ হাসিনা ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
একসময় নিষিদ্ধ থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। সম্প্রতি জামায়াত দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ দেখালেও বিএনপি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে। এ জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন–জেডভিত্তিক দল এনসিপিও যুক্ত হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তাঁর দল কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকবে না। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে দেশ বা অংশীদার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করা হবে। তিনি জানান, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হবে।
শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির অনেক শীর্ষ নেতা ও শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।