শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে শুরু এই বিক্ষোভে যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন স্লোগানে আন্দোলনকারীরা উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের জানানি, বিকেল ৫টার দিকে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। এ সময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেছে হাদি নেই, হাদি সারা বাংলায়’সহ নানা স্লোগানে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সংলগ্ন সড়ক থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে এগোলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এসময় ছররা গুলিও ছোড়া হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করেছে, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ডাকসুর নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ ৩০ জন আহত। দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জানিয়েছে, ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছে কিন্তু কারও গুলির আঘাতের চিহ্ন নেই।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ। জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার হয়েছে কিন্তু কোনো আগ্নেযাস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
সরকার শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে বদ্ধপরিকর। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে। মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সরকার।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সবার সম্মিলিত দায়িত্বপরায়ণতার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিও বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে যমুনা অ্যাডমিরাল্টি সামনে ইনকিলাব মঞ্চ বিক্ষোভ শুরু করে। নিষিদ্ধ এলাকায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও প্রথমে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেনি। পরে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও গ্রেনেড ব্যবহার হয়।