স্পেনে নগদ অর্থে লেনদেনের ওপর নির্ধারিত সীমা ২০২৬ সালেও কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর বিভাগ আসিয়েনদা। কর ফাঁকি ও অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম রোধের লক্ষ্যে প্রণীত এই নিয়ম ইতোমধ্যে বলবৎ রয়েছে এবং তা না মানলে বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সাল থেকে সব সদস্য রাষ্ট্রে নগদ লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার ইউরো নির্ধারণের পরিকল্পনা নিলেও স্পেন এ ক্ষেত্রে অনেক আগেই আরও কঠোর আইন চালু করেছে। দেশটিতে ২০২১ সালের আইন অনুযায়ী লেনদেনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নগদ পরিশোধের সীমা নির্ধারিত।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্বনিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনে এক হাজার ইউরোর বেশি নগদ অর্থ পরিশোধ করা নিষিদ্ধ। এর বেশি অর্থ লেনদেন করতে হলে ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে, দুইজন সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিগত লেনদেনে নগদ পরিশোধের সর্বোচ্চ সীমা দুই হাজার পাঁচশ ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমন সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে।
তবে বিদেশি এবং স্পেনে বসবাস করেন না—এমন ব্যক্তিদের জন্য একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। তারা ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী না হলে সর্বোচ্চ দশ হাজার ইউরো পর্যন্ত নগদ পরিশোধ করতে পারবেন।
এই আইনে নগদ অর্থ বলতে নোট, কয়েন, বহনকারী চেক এবং এমন সব মাধ্যমকে বোঝানো হয়েছে যেখানে অর্থপ্রদানের ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট নয়। তবে ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড, ডাইরেক্ট ডেবিট বা বিজুমের মতো ডিজিটাল পেমেন্টকে নগদ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
নিয়ম ভঙ্গ করলে তা কর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সীমা অতিক্রম করা অর্থের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অর্থ প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়েই দায়ী থাকবেন। যদিও স্বেচ্ছায় কর কর্তৃপক্ষকে জানানো বা তদন্তে সহযোগিতা করলে জরিমানা কমানো বা মওকুফের সুযোগ রয়েছে।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে স্পেনে যেকোনো বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে নগদের পরিবর্তে ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। ডিজিটাল ও নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার অংশ হিসেবে এই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যাতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানো যায়।