গ্রিসের কিওস দ্বীপের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন অভিবাসী নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন অভিবাসীদের বহনকারী একটি দ্রুতগামী নৌকা গ্রিসের কোস্ট গার্ডের একটি টহল জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গ্রিক কোস্ট গার্ডের দাবি, তাদের জাহাজের আলো ও শব্দ সংকেত অমান্য করে অভিবাসীদের নৌকাটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে টহল জাহাজের ডান পাশে সজোরে আঘাত করে। এতে নৌকাটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায় এবং নৌকায় থাকা সবাই সমুদ্রে পড়ে যায়।
নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। আহতদের মধ্যে গ্রিক কোস্ট গার্ডের দুই সদস্যও আছেন—একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য। আহতদের মধ্যে দুইজন গর্ভবতী নারী তাদের গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন, তবে তারা এখন আশঙ্কামুক্ত। চারজনের অবস্থা গুরুতর, যাদের মাথা ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঘাত লেগেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন শিশু। এখনও কেউ নিখোঁজ থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় আকাশ ও সমুদ্রপথে অনুসন্ধান অভিযান চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, অভিবাসীদের নৌকাটি তুরস্কের কাছাকাছি উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং কোনো আলো ছাড়াই কিওস দ্বীপের মিরসিনিদি সৈকতের দিকে যাচ্ছিল, তখনই গ্রিক টহল জাহাজ সেটি শনাক্ত করে।
গ্রিসের নৌবিষয়ক ও দ্বীপনীতি বিষয়ক মন্ত্রী ভাসিলিস কিকিলিয়াস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। কিওস বন্দরের কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এসব চক্র মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে এবং গ্রিস এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখবে।