রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, তার ভাগ্নি ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং তার ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আজ (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন। একই রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে, যা অনাদায়ে অতিরিক্ত ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে পরিণত হবে।
দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) দুটি আলাদা মামলা দায়ের করে, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনে অবৈধভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দ গ্রহণ করেছেন।
এর মধ্যে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর বিরুদ্ধে ১০ কাঠা করে দুটি প্লট বরাদ্দের অভিযোগ ছিল। এই মামলায় শাস্তি প্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা, যার মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক কর্মকর্তারা, এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
দুদক অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ বেশ কয়েকজনকে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দে গুরুতর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটেছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের জানুয়ারিতে মামলাগুলি দায়ের করা হয় এবং এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত আজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করল।
- শেখ হাসিনা: ১০ বছরের কারাদণ্ড
- টিউলিপ সিদ্দিক: ৪ বছরের কারাদণ্ড
- রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি: ৭ বছরের কারাদণ্ড
- আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী: ৭ বছরের কারাদণ্ড
এছাড়া, প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই রায়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারের উচ্চপর্যায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এমন বড় ধরনের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা এবং ভবিষ্যতে অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে।
রায় ঘোষণার পরেও বেশ কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে, দেশব্যাপী ভূমি দখল ও সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠানো হয়েছে।