অভিবাসীদের বিশেষ নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা আতঙ্ক এড়াতে পাকিস্তান ও মরক্কোসহ সকল কনস্যুল জেনারেলদের নিজ নিজ নাগরিকদের শান্ত ও আশ্বস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতালুনিয়ায় স্পেন সরকারের প্রতিনিধি কার্লোস প্রিয়েতো। তিনি জানান, যেখানে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে সেখানে যেন মানুষ শান্ত থাকে এবং সঠিক তথ্য অনুসরণ করে, সে বিষয়ে কনস্যুলেটগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
বার্সেলোনার হসপিতালেত দে জোবরেগাত-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রিয়েতো বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীর কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকা যাবে না। বিষয়টি প্রকাশের পর অনেকেই আগেভাগে নিজ দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা অপরাধ না থাকার সনদ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বসবাসের অনুমতি পেতে হলে গত পাঁচ বছরে নিজ দেশ কিংবা স্পেনে কোনো অপরাধে জড়িত না থাকার প্রমাণ দিতে হবে। স্পেনে এই তথ্য যাচাই সহজ হলেও কিছু দেশের ক্ষেত্রে কাগজপত্র সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য বিকল্প পদ্ধতির কথাও ভাবা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে বার্সেলোনার সাররিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত পাকিস্তান কনস্যুলেটের সামনে প্রায় একশ জনকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা মূলত নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে এসেছেন। অপেক্ষমাণদের অনেকেই জানান, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ কেউ সকাল ৩টা থেকে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
কনস্যুলেটের কর্মীরা সকাল থেকে আবেদনকারীদের সেবা দিতে কাজ করেছেন এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কাতালান পুলিশ সহায়তা দেয়। শুধু পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে আসা ব্যক্তিদের আলাদা সারিতে রাখা হয়, আর যাদের পাসপোর্ট নবায়ন বা অন্য কাজ ছিল তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়।
বার্সেলোনায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেটর রামন পেদ্রো বেরনাউস বাংলাদেশের অনিয়মিত নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক বক্তব্যে সবাইকে শান্ত থাকার কথা বলেন। তিনি জানান, বৈধকরণের সংবাদ প্রকাশের পর থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও নতুন পাসপোর্ট তৈরি সংক্রান্ত ডকুমেন্ট তৈরি বিষয়ে কাজের চাপ যথেষ্ট বেড়েছে। তবে তিনি এই ঘোষণাকে আপাতত একটি সংবাদ হিসেবেই দেখার আহ্বান জানান এবং স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে পুরোপুরি ঘোষণা ও নিয়মাবলী প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেনো অযথা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজে অর্থ ব্যয় না করে তার পরামর্শ দেন।
বার্সেলোনায় পাকিস্তানের কনসাল জেনারেল মোরাদ ওয়াজির স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, তারা সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছেন যাতে যত বেশি আবেদন সম্ভব গ্রহণ করা যায়। তার ভাষায়, এই নিয়মিতকরণ অনেকের জন্য বড় সুযোগ হয়ে এসেছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের পর সেগুলো পাকিস্তানে পাঠিয়ে যাচাই শেষে আবার স্পেনে ফেরত আনা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাতালুনিয়ায় বর্তমানে প্রায় ৫৯ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করছেন, যা অঞ্চলটির মোট বিদেশি জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ।