পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গ্লোবাল লেবার মার্কেট সম্মেলন (GLMC)-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কেবল শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে এখন কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি গড়ার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সৌদি তাকামল-এর সঙ্গে সম্পাদিত স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম (SVP) চুক্তি অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় দক্ষতার সনদ প্রদান করছে। সৌদি শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন দেওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুমোদনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি জারি করা হয়েছে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫। এর মাধ্যমে—
ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য দূর করতে ‘সমান কাজে সমান মজুরি’ নীতি জোরদার করা হয়েছে,
শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত শ্রমিক নিয়োগ চুক্তিকে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ব্যয়সাশ্রয়ী অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বছর রিয়াদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হুংবোসহ বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের শ্রমমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন। ভূ-রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়।
সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল প্রবাসী কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও নিরাপদ বিদেশযাত্রা নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”