বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেওয়ার নীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, বেকার ভাতা দিলে তা বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়। বরং যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলকে অবহেলা করা হয়েছে। ফলে এখনো উত্তরবঙ্গের মানুষ উন্নত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং সামান্য কর্মসংস্থানের আশায় রাজধানীমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, সেখানে গাইবান্ধা জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ইপিজেড স্থাপন, মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। তার মতে, নদীগুলো সচল হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী কারাবরণ করেছেন, কেউ কেউ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও আপসহীন থেকেছেন। দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তারা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি বলেন, “এই মাটিকে ভালোবাসি বলেই আমরা এখানেই থেকেছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, তারা যেন ‘সময়ের কোকিল’ না হন—সময় এলে এসে কথা বলে আবার উধাও হয়ে যাওয়ার রাজনীতি তারা করতে চান না। বরং জনগণের পাশে থেকে শিশুদের মেধা বিকাশ ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমসহ গাইবান্ধার বিভিন্ন আসনের জামায়াত প্রার্থী ও জেলা নেতৃবৃন্দ।