২০০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি দল ভোট কেনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই জনসভার মধ্য দিয়েই জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়।
বিএনপির প্রস্তাবিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এ ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। ২০০০ টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো সমস্যা কি সমাধান হয়?”
তিনি বলেন, এই টাকার মধ্যেও ভাগ বসানোর আশঙ্কা রয়েছে।
“আমার ভাই নাহিদ ইসলাম বলেছেন—‘খাজনা আগে, তারপর অন্যটা’। অর্থাৎ ২০০০ টাকার মধ্যে ১০০০ টাকাই চলে যাবে খাজনায়।”
তিনি অভিযোগ করেন, এসব অর্থ প্রকৃত বেকার বা দরিদ্র মানুষের হাতে না গিয়ে সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, “এই টাকা কোত্থেকে আসবে? টাকার উৎস তো জনগণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চলে।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় করের পাশাপাশি দেশে একটি ‘বেসরকারি ট্যাক্স’ বা চাঁদাবাজি ব্যবস্থা চালু আছে, যা সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই নেওয়া হয়।
“মুদির দোকান, হকার, এমনকি রাস্তার পাশে ভিক্ষা করা মানুষও এই ট্যাক্স থেকে রেহাই পায় না।”
জামায়াত ক্ষমতায় এলে এই চাঁদাবাজি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
চাঁদাবাজির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “গাড়ি থামিয়ে টাকা নেওয়া হয়, বলা হয়—এটা রাজনৈতিক ইজারা। কেউ দল জিজ্ঞেস করলে ধমক, আবার কেউ বলে—‘নামের কী দরকার, টাকা দেন।’”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “আমরা চাঁদা নেব না, কাউকে নিতেও দেব না। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না—ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ইনসাফ থাকবে সবার জন্য—জাতি, ধর্ম, দল নির্বিশেষে। ইনসাফ আর টাকা দিয়ে কেনাবেচা হবে না।”
তিনি বলেন, জামায়াতের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে, শিশু, তরুণ, যুবক-যুবতী, শ্রমিক, কৃষক ও পেশাজীবীদের; মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার জন্য সমান অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ।