এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে, বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া এ পরীক্ষার তত্ত্বীয় অংশ শেষ হবে ২০ মে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় অংশ শেষে ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে, যা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষার সূচি অনুমোদনের পর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রকাশ করেছে।
পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কক্ষে প্রবেশ করতে হবে এবং পরীক্ষা আরম্ভের তিন দিন আগে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—তিন অংশেই আলাদাভাবে পাস করতে হবে; পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারলেও কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি পরীক্ষার্থীদেরও, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এ বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে, তবে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে, কারণ এ বছরের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে বাতিল হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করলেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা বাতিল হওয়ায় দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজনসহ ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে গেছেন, অন্যদিকে গতবছরের পরীক্ষার্থীরা নবম-দশম উভয় শ্রেণিতে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমেই পড়েছেন।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রমে নবম-দশম শ্রেণির বিভাগ বিভাজন তুলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে শিক্ষাক্রম বাতিল ঘোষণা করে এবং চলতি বছর থেকে দশম শ্রেণিতে আবার বিভাগ বিভাজন ফিরিয়ে আনে; একই পরিপত্রে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
বিভাগ-বিভাজন পুনর্বহালের পর এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, প্রশ্নের ধরণ ও নম্বর বণ্টন ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), পরে ২ জানুয়ারি বাংলা বিষয়ের সিলেবাসে কিছু পরিবর্তন এনে সংশোধিত সিলেবাসও প্রকাশ করা হয়