প্রায় সাত বছর পর মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ নামেও পরিচিত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। এই শুনানিপর্ব টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।
২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া জাতিসংঘের বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। সেই মামলারই মূল শুনানি শুরু হচ্ছে এবার।
জাতিসংঘের রোহিঙ্গা গণহত্যা তদন্তকারী সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মামলার নথিভুক্ত অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
২০১৭ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। মিয়ানমার সরকার ওই হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান সালভেশন আর্মিকে (আরসা) দায়ী করে। এর পরপরই রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।
অভিযানের নামে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যারা এখনো শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছে।
ঘটনার পর জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল তদন্ত চালিয়ে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক কার্যক্রম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গাম্বিয়া আইসিজিতে মামলা করে।
সেসময় মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অং সান সুচি জাতিসংঘের প্রতিবেদনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলাকেও তিনি ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন।
মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌজিমান বলেন, এই বিচার আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণ উপস্থাপন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।