পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে হত্যার বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকেই শিক্ষার্থীরা ঢাকা–তেঁতুলিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করছিলেন। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের ফলে যানজট সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শেষ করে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
তবে কর্মসূচি শেষের পরপরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ পথচারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পঞ্চগড় সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
আন্দোলনের নেতারা ফজলে রাব্বী ও মোকাদ্দেসুর রহমান সান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেছি। এরপর আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পঞ্চগড় আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আকবর আলী বলেন, কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়।
অন্যদিকে, সেনাক্যাম্প কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ বলেন, “ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির সঙ্গে সেনাবাহিনীও একমত। তবে আন্দোলনের কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি লাঠিচার্জ হয়ে থাকে, সে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই।”
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।