আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার মতে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ ও বড় ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে রাখাই হবে মূল লক্ষ্য।
রোববার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজনীতির নামে দুর্নীতি ও জনসম্পদ আত্মসাতের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মানুষের কষ্টের অর্থ লুট করে রাজনীতি করার চেয়ে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়া অনেক বেশি সম্মানের। সেই সম্মানের রাজনীতিই তারা করতে চান।
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও ক্ষুদ্র অনুদান তাঁদের রাজনৈতিক পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। এতে প্রমাণ হয়, জনগণ পরিবর্তনের রাজনীতির পাশে আছে।
ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আকাশছোঁয়া প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই জনগণের সামনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। নিজেকে দেবিদ্বারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি পেশিশক্তির রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শভিত্তিক লড়াইয়ের আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে তরুণদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তার অভিযোগ, বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতি ও সংসদকে জিম্মি করে রেখেছিল একটি প্রভাবশালী ঋণখেলাপি গোষ্ঠী। এবারের নির্বাচনে সেই অপশক্তিকে প্রতিহত করাই এনসিপির মূল এজেন্ডা। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
পদযাত্রার অংশ হিসেবে সীমান্ত পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয়।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ঋণখেলাপিমুক্ত সংসদ গঠন, তরুণদের মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা—এই লক্ষ্যগুলো নিয়েই নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।