ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘আগে গুলি করবো, পরে প্রশ্ন’ ধরনের বার্তা এবং দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের তুলনামূলক সংযত বক্তব্য, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে ঘিরে দ্বিমুখী সংকেত তৈরি করেছে। একদিকে পুরোনো এক সামরিক নীতি পুনর্ব্যাখ্যা করে ডেনিশ সেনাদের জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলার চেষ্টা করে, তবে তারা কোনো অতিরিক্ত নির্দেশের অপেক্ষা না করে সরাসরি পাল্টা আক্রমণ চালাবে; অর্থাৎ প্রথমে গুলি, পরে প্রশ্ন। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় পত্রিকা ‘বার্লিংস্কে’ কে নিশ্চিত করেছে, শীতল যুদ্ধের সময় প্রণীত ১৯৫২ সালের এই ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ এখনও কার্যকর আছে এবং গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা প্রয়োজনে কার্যকর করা হবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকেরা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিলেও, কূটনৈতিক ভাষায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালালে আট দশকের ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং ন্যাটো জোটের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।তিনি স্পষ্ট করেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল বা জোর করে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে কোনো চিন্তা ন্যাটোর মৌলিক নীতির বিরোধী এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নিরাপত্তা স্থিতির জন্য তা মারাত্মক হুমকি।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্কের মূল বক্তব্য হলো দ্বীপটি বিক্রির বা বিনিময়ের সম্পত্তি নয়; এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকে ডেনিশ মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতৃত্ব বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নয়, নিজেদের সিদ্ধান্তেই তারা সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রশ্নে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে। একই সঙ্গে ডেনমার্ক মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেকোনো আলোচনা আন্তর্জাতিক আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই করতে হবে, বলপ্রয়োগ বা হুমকির ভাষা ব্যবহার করে নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে। এ অবস্থায় ডেনমার্কের ‘শুট ফার্স্ট, আস্ক লেটার’ ধরনের সামরিক প্রস্তুতির বার্তা অনেকের কাছে দৃঢ় প্রতিরোধের ঘোষণা হলেও, সমালোচকদের মতে এটি পরিস্থিতিকে আরও সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে।এ অবস্থায় ডেনমার্কের ‘শুট ফার্স্ট, আস্ক লেটার’ ধরনের সামরিক প্রস্তুতির বার্তা অনেকের কাছে দৃঢ় প্রতিরোধের ঘোষণা হলেও, সমালোচকদের মতে এটি পরিস্থিতিকে আরও সশস্ত্র সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডেনমার্কের এই দুইমুখী বার্তাকে একদিকে কড়াভাবে সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার, অন্যদিকে যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে যৌথভাবে ঘোষণা দিয়েছে, বলপ্রয়োগ করে সীমান্ত পরিবর্তন করা যাবে না এবং গ্রিনল্যান্ড–ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোই আন্তর্জাতিক আইনের দাবি।ফলে একদিকে ডেনিশ সেনাদের ‘আগে গুলি’–ধরনের নির্দেশ গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষায় কঠোর অবস্থানকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সংযত ভাষা ইঙ্গিত করছে, শেষ পর্যন্ত ডেনমার্ক এখনো আলোচনার টেবিলেই সমাধান খুঁজতে চায়।