থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় যৌন সেবার পারিশ্রমিক পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ভারতীয় পর্যটককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ ডিসেম্বর ভোরে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীর নাম রাজ জাসুজা (৫২)। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন ট্রান্সজেন্ডার নারী তার কাছে টাকা দাবি করছেন। রাজ জাসুজা দাবি করা অর্থ দিতে অস্বীকার করে গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, যৌন সেবার পুরো অর্থ পরিশোধ না করেই তিনি স্থান ত্যাগ করতে চাইছিলেন—এমন অভিযোগ ওঠার পর পথচারীদের সহায়তায় তাকে গাড়ি থেকে টেনে নামানো হয়। এরপর উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাকে লাথি ও ঘুষি মেরে গুরুতরভাবে আহত করা হয়।
থাইগার নামের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, উদ্ধারকারীরা রাজ জাসুজাকে মুখ ও মাথার পেছনের অংশে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে পাতামাকুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
১৯ বছর বয়সী এক থাই প্রত্যক্ষদর্শী উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের জানান, তিনি রাজ জাসুজাকে পাতায়ার জনপ্রিয় ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ এলাকার প্রবেশমুখে একজন ট্রান্সজেন্ডার যৌনকর্মীর সঙ্গে তর্ক করতে দেখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়ার মধ্যে গড়ায় এবং পরে আরও কয়েকজন এতে জড়িয়ে পড়লে তা দলবদ্ধ হামলার রূপ নেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগেও পাতায়ায় ভারতীয় পর্যটকদের সঙ্গে এ ধরনের বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। গত সেপ্টেম্বরে অশালীন আচরণের অভিযোগে এক ট্রান্সজেন্ডার যৌনকর্মী এক ভারতীয় নাগরিককে আক্রমণ করেন। এছাড়া গত অক্টোবরে পাতায়ার একটি হোটেলে তিনজন ট্রান্সজেন্ডার নারী দুই ভারতীয় নাগরিককে মারধর করে প্রায় ২৪ হাজার বাত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৯ হাজার টাকা) মূল্যের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে।
থাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ জাসুজা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে থাই আইন অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হবে।