আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে সিলেট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি আসনে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তকে ‘পক্ষপাতিত্বমূলক’ বলে অভিযোগ করছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
সিলেটে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় এনসিপির এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও একই ইস্যুতে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রার্থীভেদে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় সিলেট-১ আসনে এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে স্থগিত হওয়া অন্য দুই প্রার্থী পরবর্তীতে কাগজপত্র জমা দেওয়ায় তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে এনসিপি প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাজ্যের হোম অফিস বন্ধ থাকায় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজ আনতে পারেননি, অথচ একই যুক্তিতে অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের একটি আসনেও। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী দাবি করেছেন, সামান্য ত্রুটিকে অজুহাত করে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এটি একটি বিশেষ এজেন্ডার অংশ। যদিও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই নিয়ে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল। তারা প্রশাসনের একতরফা আচরণ, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছে। এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের একাধিক উদাহরণ তাদের কাছে রয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, মনোনয়ন স্থগিত বা বাতিলের ক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনকে চাপে রাখতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের জন্য আপিলের পথ খোলা রয়েছে এবং প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও আছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যদের মতে, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে কমিশনের উচিত সব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হোক বা রাজনৈতিক কৌশল—দুটো ক্ষেত্রেই কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি, যাতে ভোটার ও প্রার্থীদের আস্থা অটুট থাকে।