বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিন উদযাপন করা হলেও মিশরের কপটিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব—ক্রিসমাস (নেটিভিটি অব জিসাস ক্রাইস্ট) পালন করা হয় ৭ জানুয়ারি। জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করায় কপটিক খ্রিস্টানরা প্রতিবছর ৭ জানুয়ারি যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন করে থাকেন।
দিনটি উপলক্ষে মিশরজুড়ে কপটিক গির্জা গুলোতে মধ্যরাতের বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার ও উৎসবমুখর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কায়রোর ঐতিহাসিক সেন্ট মার্ক ক্যাথেড্রালসহ বিভিন্ন চার্চে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কপটিক পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রোসসহ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। দিনটি উপলক্ষে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি কপটিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার্চ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্বখ্যাত আল-আজহার শরীফের গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল আজহার অধ্যাপক ড. আহমেদ আল- তাইয়্যেব পোপ তাওয়াদ্রোস দ্বিতীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে ও মিশরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বড়দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পোপ তাওয়াদ্রোস দ্বিতীয় শাইখুল আজহারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সাক্ষাৎ মিশরের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি খ্রিস্টের জন্মকে সমগ্র মানবতার জন্য শান্তির বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সুদান, গাজা ও ইয়েমেনসহ নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ক্রিসমাসের আগে কপটিক খ্রিস্টানরা প্রায় ৪৩ দিনব্যাপী উপবাস পালন করেন, যা “কপটিক ফাস্ট” নামে পরিচিত। এই দীর্ঘ উপবাস শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বিশেষ খাবার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়।
মিশরের সামাজিক ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে এই দিনে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষও কপটিক বন্ধু ও প্রতিবেশীদের শুভেচ্ছা জানান। কপটিক ক্রিসমাস শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মিশরের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।