আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশ থেকে আগত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে—এমন যুক্তিতে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক, তা অনুধাবনে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতায় টিআইবি বিস্মিত। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হলে দেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য একই ব্যবস্থা কেন থাকবে না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে নির্বাচন মূল্যায়ন করতে পারবেন, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। কারণ পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপরও নির্ভর করে, যা কমিশনেরই অর্থায়নে পরিচালিত হলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দায়িত্ব পালন করা নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ডে কতটা গ্রহণযোগ্য—সে বিষয়টি তাদেরও বিবেচনা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচন কিংবা তার আগের নির্বাচনগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এমন বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অতীত প্রচেষ্টা কতটা সফল ছিল, তা থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের শিক্ষা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার পথ থেকে কমিশন সরে আসবে বলে টিআইবি আশাবাদ ব্যক্ত করে।