ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকটি স্থানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং আশপাশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এমন স্থানগুলোর মধ্যে সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় এলাকায় অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় স্থানের বিস্ফোরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময় কারাকাসের আকাশে বিমান উড়তে দেখা গেছে—এমন অনিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শনিবার ভোরে কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনা ঘটছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগে স্পিডবোট লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে নির্বাচিত এবং তিনি দেশজুড়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেছেন, মাদক ও অপরাধচক্রের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—যার মধ্যে নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনাও রয়েছে—প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ।