জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিচ্ছেন না।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তাজনূভা জাবীন লিখেছেন,
“আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।”
ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে সরাসরি আপত্তি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন,
“আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।”
তাজনূভা জাবীন আরও লেখেন,
“এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হলো বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারা দেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সিট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেয়া হবে না।”
নির্বাচনের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,
“বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ।”
তাজনূভা জাবীন জানান, তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এলাকায় জনসংযোগও করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি লেখেন,
“আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি।”
দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি লেখেন,
“এনসিপি শুরু থেকে যে গণ পরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, মধ্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারণ করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি।”
তিনি আরও বলেন,
“এই দল ছেড়ে দেয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই।”
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তাজনূভা জাবীন লেখেন,
“এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি। আমার নেতা হবে মাজাওয়ালা, জুলাই রাজনীতির ধারক। কিন্তু পুরো জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের নাম করে তুলে দিচ্ছে জামায়াতের হাতে।”
নিজের ভবিষ্যৎ রাজনীতি সম্পর্কে তিনি লেখেন,
“আমি আগে কখনো রাজনীতি করি নাই। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য। আমি মারা যাওয়ার আগপর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব।”
নির্বাচনের জন্য পাওয়া অনুদান ফেরত দেওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট অঙ্গীকার করেন তাজনূভা জাবীন। তিনি লেখেন,
“আমি আপনাদের পাঠানো ডোনেশন ফেরত দেব এক এক করে। আমাকে একটু সময় দেবেন। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব।”
পরে আরেকটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“আরেকটা কথা, আমি এনসিপি ছেড়েছি, রাজনীতি না। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আমার আসল লড়াই শুরু। আমার রাজনীতির শেষ না, এটা শুরু।”
তাজনূভা জাবীনের পদত্যাগের একদিন আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। ধারাবাহিক এই পদত্যাগে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভেতরে সংকট আরও প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।