আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দীর্ঘ আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা তরুণদের রাজনৈতিক দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যেই যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপি ও জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এনসিপির একাধিক সূত্র জানায়, দলের অভ্যন্তরে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সম্মতি মিলেছে। যদিও দলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন, তবে দেড় শতাধিক নেতা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, সমঝোতার বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কোন দল কতটি আসনে নির্বাচন করবে—সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। দরকষাকষির মাধ্যমেই আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে এনসিপির ভেতরে অসন্তোষও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরোধিতা করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন সদস্য শনিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, জাতীয় নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন এই সমীকরণ বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।