কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলেছে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ। প্রায় চার মাস পর দানবাক্স খোলার পর পাওয়া গেছে রেকর্ড ৩৫ বস্তা টাকা, যা আগের সব রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত পাগলা মসজিদের মোট ১০টি লোহার দানসিন্দুক ও অতিরিক্ত ৩টি টিনের ট্রাঙ্ক খোলা হয়। দানবাক্সগুলো খোলার পর বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়, যা বর্তমানে মসজিদের দোতালায় এনে গণনা করা হচ্ছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের তত্ত্বাবধানে দান গণনায় অংশ নিয়েছেন মসজিদ কমপ্লেক্সের মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দানবাক্স খোলার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এবার অতিরিক্ত তিনটি টিনের ট্রাঙ্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ৩ মাস ২৮ দিন পর খোলা হয়েছে। এ কারণে দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার সংগৃহীত অর্থ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট দানবাক্স খোলার সময় চার মাস ১৮ দিনে সংগৃহীত রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া যায়। সে সময় নগদ অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গিয়েছিল।
দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।
এদিকে পাগলা মসজিদকে আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নামে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট পাগলা মসজিদ পরিদর্শনকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, আধুনিক তুর্কি নকশায় বহুমুখী ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ ১৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এফডিআর হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে, যার লভ্যাংশ দরিদ্র, অসহায়, অনাথ ও অসুস্থদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে।