ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিতও দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ওসমান হাদির হত্যাকারীরা কারা— তা নির্ধারণ না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে চলে যাওয়া যাবে না। নির্বাচনের আগে অবশ্যই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।”
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আপনি বলেছেন, আপনি শহীদ হাদিকে ধারণ করেন। কিন্তু জানাজার ময়দানেও আপনি একবার বলেননি— এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন। এত বড় একটি হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনার নীরবতা জনগণকে হতাশ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ আর শুধু রক্ত দেবে— তা হবে না। যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের গ্রেফতার করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে জনগণ প্রতিরোধে নামতে বাধ্য হবে। একবার রক্তপাত শুরু হলে তা আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না— এই হুঁশিয়ারি আমরা স্পষ্টভাবে দিতে চাই।”
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড একটি বড় পরীক্ষা। এই ঘটনায় দৃশ্যমান ও কার্যকর বিচারিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেওয়া উচিত। “অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী ও জুলাই-পরবর্তী সময়ের সাহসী কণ্ঠ ছিলেন। তার হত্যাকাণ্ডে সেই পথেই এগোতে হবে,” বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পরিকল্পিতভাবে ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টি মূল আলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “হাদিকে মূল বিষয় থেকে বাদ দিলে রাষ্ট্রের আর কোনো বিষয়ই মূল বিষয় থাকে না। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রের সব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
তিনি জানান, সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন— এই প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চ আশা করছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্র স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানাবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।