গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। গত তিন দিনে জেলাটির বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অন্তত ১৮ জন নেতা-কর্মী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইউনিয়ন ও পৌর আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পদত্যাগকারীরা হলেন— মুকসুদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নাদিম মুন্সী ও মো. রফিকুল ইসলাম মুন্সী এবং ভাবড়াশুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোনায়েম হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. নাদিম মুন্সী জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করছেন। তিনি বলেন, “আজ থেকে আমাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে আমরা আর কখনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবো না।”
একই দিনে অপর এক সংবাদ সম্মেলনে ভাবড়াশুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোনায়েম হোসেন তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় দলীয় সব পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, “আজ থেকে আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ভবিষ্যতে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কোনো ইচ্ছাও নেই।”
এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মুকসুদপুর থেকে ১০ জন এবং টুঙ্গিপাড়া থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও কৃষকলীগের চারজন নেতা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। এছাড়া শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) কোটালীপাড়া উপজেলায় যুবলীগের একজন নেতা দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও চাপ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদত্যাগের এই ঢল অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।