রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার দুপুরে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ও ডিনস কমপ্লেক্সে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর আগে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিনদের কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগপন্থী ছয়জন ডিনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসন তাঁদের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তাঁরা মেনে নিতে রাজি নন। বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠক চলছিল।
তালাবদ্ধ হওয়া ডিনদের মধ্যে রয়েছেন আইন অনুষদের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্ল্যাহ, বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক নাসিমা আখতার, প্রকৌশল অনুষদের অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এ এইচ এম সেলিম রেজা।
কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানান। আন্দোলনে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার, সিনেট সদস্য আকিল বিন তালেব, রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদক, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রপক্ষের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২টি অনুষদের মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামী লীগপন্থী হলুদ প্যানেলের ডিন নির্বাচিত হন। গত বুধবার তাঁদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন উপাচার্য।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিনদের পদত্যাগের দাবি জানান। রোববার সকালে তিনি রাকসু ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ছয় ডিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্ল্যাহ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন এবং উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভর্তি পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের কারণে ডিনদের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপাচার্যই জানাবেন।