শীতকাল এলেই অনেকের জীবনে শুরু হয় নতুন ভোগান্তি। নূরজাহান বেগমের মতো অসংখ্য মানুষ আছেন, যাদের কাছে শীত মানেই হাঁটু, কোমর কিংবা আঙুলের তীব্র ব্যথা। তাপমাত্রা একটু নামলেই জয়েন্টে শক্তভাব, ফোলা আর ব্যথা বেড়ে যায়। দৈনন্দিন কাজকর্মও হয়ে ওঠে কষ্টকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রক্তসঞ্চালন কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ফলে পেশি ও লিগামেন্ট শক্ত হয়ে পড়ে এবং আর্থ্রাইটিসের ব্যথা তীব্র হয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে শীতকালেও এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শরীর রাখুন উষ্ণ
শীতে শরীর গরম রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঠান্ডায় জয়েন্টের চারপাশের পেশি সংকুচিত হয়, যা ব্যথা বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত গরম পোশাক পরুন। হাঁটু বা কনুইয়ের জন্য উল কিংবা নিওপ্রিন সাপোর্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যথার জায়গায় দিনে এক–দুবার গরম সেঁক দিলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শক্তভাব কমে। হালকা গরম পানিতে গোসল করলেও আরাম পাওয়া যায়।
ব্যায়াম বন্ধ করবেন না
শীত এলেই অনেকেই ব্যথার ভয়ে চলাফেরা কমিয়ে দেন, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম জয়েন্টকে নমনীয় রাখে। ধীরে হাঁটা, স্ট্রেচিং কিংবা হালকা যোগব্যায়াম উপকারী। সকালে রোদে ব্যায়াম করলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন
খাবারের ভূমিকা আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদাহ কমাতে সহায়ক খাবার যেমন হলুদ, আদা ও রসুন খাদ্যতালিকায় রাখুন। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ মাছ, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিড জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ হাড়কে শক্ত রাখে। অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
ওজন রাখুন নিয়ন্ত্রণে
অতিরিক্ত ওজন হাঁটু ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, ফলে ব্যথা বেড়ে যায়। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ অনেকটাই কমে।
বিশ্রাম ও ঘুম জরুরি
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। শীতে আরামদায়ক ভঙ্গিতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজনে গরম কম্বল ব্যবহার করুন।
ব্যথা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করা উচিত।