জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে দলে দলে ছাত্র-জনতা আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধসংলগ্ন স্থানে দাঁড়িয়ে তারা দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ হাদির কবর দেখতে আসছেন। কেউ দূর থেকে নীরবে কবর প্রদক্ষিণ করছেন, কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। উপস্থিত অনেকের চোখেমুখে শোক ও ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট।
সকাল ১১টার দিকে মিরপুর থেকে পরিবারসহ কবর জিয়ারতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আহাদ। এ সময় তিনি হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আব্দুল আহাদ বলেন, ‘হাদির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই যেন ছাড় দেওয়া না হয়।’
আরেক দর্শনার্থী শরিফ হাসান বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা অংশ নেন। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।