ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে এক পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর উত্তেজিত লোকজন কারখানার সামনে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তাঁর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম দিপু চন্দ্র দাস (২৭)। তিনি জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার লিংকিং সেকশনে কাজ করতেন। দিপু তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কারখানার ভেতরে এক শ্রমিক দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তোলেন। অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়লে কারখানার ভেতরে ও আশপাশে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও শ্রমিকদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ফটকের দিকে জড়ো হয় এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীরা দিপুকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। বাইরে বের হলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর কারখানার সামনে মহাসড়কের বিভাজকে দিপুর মরদেহ রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দিপুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই তপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।